শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, হাওড়ায় অচল অবস্থা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 11 জুন 2022, 05:00 বিকাল • 1,004 বার পঠিত
মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, হাওড়ায় অচল অবস্থা

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পশ্চিম বঙ্গে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। পশ্চিম বঙ্গের হাওড়া জেলায় গতকাল শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। আজ শনিবারও বিক্ষোভ চলছে। 

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আজ হাওড়া জেলার পাঞ্চলা বাজার এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়েছে। এছাড়া এলাকাটিতে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। গোটা জেলায়
ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৩ জুন পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

আজ শনিবার দুপুরে ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিম বাংলার ইউনিট প্রেসিডেন্ট সুকান্ত মজুমদার হাওড়া জেলার বিক্ষোভ এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। উত্তর দিনাজপুরের বালুরঘাটের সাংসদ মজুমদারকে বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, ‘‘মিস্টার মজুমদার হওড়ার যে এলাকায় ১৪৪ ধারা আছে সেখানে পরিদর্শনে যেতে চাইছিলেন। তিনি পরিদর্শনে গেলে ল অ্যান্ড অর্ডার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এটা একটা প্রতিরোধক
গ্রেপ্তার।’’

পশ্চিম বঙ্গের গভর্নর জাগদিপ ধানকার হাওড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার আইন পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে দেখে শনিবার মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘ল অ্যান্ড অর্ডার পরিস্থিতি খারাপের দিকে। মমতা ব্যানার্জীর কাছে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা হোক ও গ্রেপ্তার করা হোক।’’

শুক্রবার শত শত প্রতিবাদী মুসলমান হাওড়া জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও রেলওয়ে পথ বন্ধ করে দেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। দুলাগড় ও পাঞ্চলায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর ছুড়েছে। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা এই সময়ে নাগালে পাওয়া গাড়ি ভাংচুর করে।

বিক্ষোভকারীরা চেঙ্গাইল, ফুলেশ্বর ও সান্ত্রাগাছির রেল চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। তাতে চারটি ট্রেন ক্যান্সেল হয়। হাওড়ার অংকুরহাটিতেও এদিন একইরকম বিক্ষোভ হয়েছে। টানা ১১ ঘণ্টা চলেছে বিক্ষোভ। 

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভারতজুড়ে মুসলমানরা বিক্ষোভ করেছেন। ১৪টি রাজ্যের প্রায় ৩০টি বড় এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে ঝাড়খন্ডের রাচিতে দুজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। শুধু উত্তর প্রদেশেরই বিভিন্ন জেলা থেকে ২২৭ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।  

নুপুর শর্মা ঘটনার কেন্দ্রে। তিনি ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার
মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন। 

কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে।  

আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান। 

মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন  জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের  বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। 

কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে। নিজেদের দেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে এখন চাপে তারা।