শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, হাওড়ায় ১০০’র বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 12 জুন 2022, 12:08 দুপুর • 493 বার পঠিত
মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, হাওড়ায় ১০০’র বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননার প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় গ্রেপ্তার
হয়েছেন ১০০’র বেশি বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাওড়া পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা
হয়েছে। বেঙ্গল সরকার নানা ধরনের বিধি-নিষেধও জারি করেছে। 

সোমবার পর্যন্ত হাওড়ায় ইন্টারনেট ও ভিওআইপি সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা
হয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলেডাঙ্গা, রেজিনগর ও শক্তিনগরে। এইসব এলাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্টারনেট থাকবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদে বিক্ষোভের ঘটনায় ডিউটি করতে গিয়ে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, বিজেপির পাপে কেন বাংলার মানুষ ভূগবে? যারা সন্ত্রাস করছে
তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। 

হাওড়ার পরিস্থিতি সামলাতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে হাওড়া পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারিন্টেন্টকে বদলে ফেলা
হয়েছে। কলকাতারর পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার প্রবিন ত্রিপাঠি এখন হাওড়া পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে। হাওড়া
এসপির দায়িত্বে সাউথ-ওয়েস্টের ডিসিপি স্বাতি ভাঙ্গালিয়া।

এর সঙ্গে ১০ জন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে হাওড়া স্টেশনে আনা হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, আরো অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে। তারা সিসিটিভি ইমেজ দেখে, মোবাইল কল তালাশ করে,
ভিডিও ফুটেজ থেকে চিহ্নিত করে শান্তি নষ্টকারীদের গ্রেপ্তার করবে।  

নুপুর শর্মা ঘটনার কেন্দ্রে। তিনি ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার
মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন। 

কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে।  

আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান। 

মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন  জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের  বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। 

কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে। নিজেদের দেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে এখন চাপে তারা।