মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যে কানপুরে সংঘর্ষ
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র নুপুর শর্মার অবমাননাকর বক্তব্য নিয়ে উত্তর প্রদেশের কানপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নুপুর শর্মার বিতর্কিত বক্তব্যের সূত্র ধরে এর প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর একদল দোকান পাট বন্ধ করে দিতে চায়। অন্য পক্ষ তাতে বাধা দেয়। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।
জ্ঞানবাপি মসজিদ ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি এক সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে নুপুর শর্মা অবমাননাকর বক্তব্য রাখেন। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আর কানপুরে ঘটা সংঘর্ষকে ভিত্তি করে তিনটি এফআইআর ফাইল করা হয়েছে। তাতে ৪০ জনের নাম এবং আরো ১,০০০ জন অজ্ঞাতনামাকে অভিযুক্ত করে দাঙ্গা ও হত্যার চেষ্টার চার্জ আনা হয়েছে।
কানপুরের পুলিশ কমিশনার বিজয় সিং মিনা বলেছেন, কানপুরের পরিস্থিতি এখন
নিয়ন্ত্রণে আছে। মিনা জানান, এই সংঘর্ষে গুলি ছোড়া ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের
খবর গুজব হিসেবে রটেছে। তিনি আরো বলেন, সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন।
‘‘৫০ থেকে ১০০ হবে এমন সংখ্যার তরুণ হঠাৎ রাস্তায় নেমে আসে এবং স্লোগান দিতে শুরু করে। আরেকটি দল এর বিরোধিতা করে। এভাবে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। তখন ওই জায়গায় আট থেকে দশজন পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
তারা এটার সমাধানের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।’’
পুলিশ কমিশনার মিনা ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন এভাবে, ‘‘কন্ট্রোল রুমে দ্রুত খবর যায়। আমি ও সিনিয়র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাই। যারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল তাদের তাড়া করি এবং ১৫ থেকে ২০
জনকে ধরে ফেলি। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। পুলিশ পুরো এলাকায় পাহারা দিচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। যতটুকু খবর পেয়েছি তাতে দুজন আহত হয়েছে বলে জেনেছি।’’
ওই ঘটনার ভিডিও করেছেন সাংবাদিকরা। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পক্ষ দুই পাশ থেকে একে অন্যকে পাথর ছুড়ছে। আরেকটি ভিডিওতে তাদের দিকে পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস ছুড়তে দেখা যায়। তৃতীয় এক ভিডিওতে একজন মানুষকে কয়েকজন মানুষ মিলে খুব প্রহার করতে দেখা যায়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (ল অ্যান্ড অর্ডার) প্রশান্ত কুমারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘‘ঘটনার ভিডিও ক্লিপ দেখে যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার আইনব্যবস্থা ঠিক রাখতে বিপুল পরিমানে আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদেরও সেখোনে পাঠানো হয়েছে।
কানপুরে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দ ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরের একটি জায়গায় অনুষ্ঠানে ছিলেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনার জন্য নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যকে দায়ী করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন। তিনি টুইট করে জানিয়েছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মূখ্যমন্ত্রী শহরে উপস্থিত থাকার পরও বিজেপি মুখপাত্র নুপুর শর্মার বক্তব্যের কারণে শান্তি নষ্ট হয়েছে। এই কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিৎ।’’