মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে মন্তব্যে প্রতিবাদ জানাল মালয়েশিয়া
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল মালয়েশিয়া। আজ মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তারা দুপুরে তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছিল। আলোচিত ঘটনায় তারা তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
‘‘মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করা উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য (ভারতীয়) ক্ষমতাসীন দলের তাদের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে মালয়েশিয়া স্বাগত জানায়-’’ বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়েছে।
তাদের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মালয়েশিয়া ইসলাম বিদ্বেষ দূর করতে ভারতকে তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক মুখপাত্র নুপুর শর্মা টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। দলটির দিল্লির মিডিয়া বিভাগের প্রধান নাভিন জিন্দাল টুইট করে নুপুর শর্মার সঙ্গে যোগ দেন। বিশেষ করে নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। বিজেপি রোববার এই দুজনকে যথাক্রমে বরখাস্ত ও বহিষ্কার করে।
কিন্তু তাতে আরব বিশ্বে ক্ষোভ কমার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। ক্ষুব্ধদের সঙ্গে শেষ যে দেশটি যোগ দিল সেটি হলো মালয়েশিয়া। আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, ইরাক, মালদ্বীপ, বাহরাইন, তুরস্ক, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, লিবিয়া, কুয়েত প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে।
কাতার এর মধ্যে ভারত সরকারকে এই ঘটনায় ক্ষমা চাইতে বলেছে।
ইরাকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামবিদ্বেষী এসব কাজ বন্ধ না করা হলে এমন অকল্পনীয় অবস্থার সৃষ্টি হবে যা শান্তির জন্য হুমকি।
ভারতের এই ঘটনায় প্রথম দিকে প্রতিবাদ করা দেশগুলো হলো কুয়েত, কাতার, ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
কায়রো ভিত্তিক বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল আজহার জানিয়েছে, এইসব কথা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন ও মুসলিম ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল।
গাল্ফ আরব অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে। সাধারণের মধ্যে সেখানে ভারতীয় পণ্য বয়কট বা বর্জনের ডাক এসেছে।
৫৭ সদস্যের অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কর্পোরেশন বা ওআইসি এই ঘটনাকে ভারতে মুসলমানদের ওপর চালানো ধারাবাহিক সন্ত্রাসের অংশ হিসেবে দেখছে। বিজেপি নেতাদের মন্তব্যকে তারা বড় পরিসরে ইসলাম বিদ্বেষের অংশ হিসেবেও অভিহিত করেছে।
তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) মুখপাত্র ওমের সেলিক এই ঘটনাকে ইসলামের অপমান বলে চিহ্নিত করেছেন।