মার্কিন জিম্মি নিয়ে হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় বন্দি থাকা মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাসের সঙ্গে গোপনে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বুধবার রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, তারা এ আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে জিজ্ঞেস করেছিল। উত্তরে হোয়াইট হাউজ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোলারের হামাসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ‘কর্তৃত্ব’ আছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে তাদের অনুসরণ করা কূটনৈতিক নীতি ভেঙেছে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে না ওয়াশিংটন, কিন্তু এবার হামাসের সঙ্গে আলোচনায় বসে সেই নিয়ম ভাঙল তারা। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দেয়।
এই আলোচনায় বিষয়ে অবহিত দুই কর্মকর্তা জানান, কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বোলার ও হামাসের কর্মকর্তারা সেখানে বৈঠক করছেন।
হামাসের প্রতিনিধি হিসেবে মার্কিন দূতের সঙ্গে কে আলোচনা করছেন তা পরিষ্কার হয়নি।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোলার গাজা যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছেন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “হামাসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার কর্তৃত্ব বোলারের আছে।
তিনি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। তবে হামাসের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আগে না পরে ইসরায়েলের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে লেভিটের কথা থেকে তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
‘যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের জন্য যা করা সঠিক শুভ বিশ্বাস থেকে’ ট্রাম্প তাই করার চেষ্টা করছেন বলে লেভিট জানান।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েল তার অবস্থান জানিয়েছে।”
বিবৃতিতে আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটি। আরও অনেক দেশের পাশাপাশি ইসরায়েলও হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন বলে বিবেচনা করে গোষ্ঠীটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা বাতিল করেছে।
হামাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো রয়টার্সকে বলেছেন, “মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বৈঠক হলে তা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য লাভজনক হবে।”
ওই মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আলোচনায় প্রধানত গাজায় এখনও বন্দি থাকা মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সব জিম্মিকে মুক্তি এবং কীভাবে একটি দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাদের একজন।
হামাসের সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, এমন প্রশ্নে লেভিট বলেন, “আলোচনা চলমান আছে। সেগুলোর বিস্তারিত বলছি না আমি। সেখানে আমেরিকান জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে।”