মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শিশু মৃত্যুহার বাড়ার আশঙ্কা
জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে কয়েক দশকের অগ্রগতি থমকে যেতে পারে, এমনকি উল্টে যেতে পারে।
সোমবার প্রকাশিত ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশে শিশুমৃত্যুর হার ইতোমধ্যেই বেশি, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়, সেখানে সহায়তা হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবন রক্ষাকারী পরিষেবাগুলোর সহায়তা চালু না থাকলে অনেক দেশে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুহার পুনরায় বাড়তে পারে।
২০২৩ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৮ লাখ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে এক মাসের কম বয়সী ২.৩ মিলিয়ন নবজাতক অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ লাখের নিচে নেমে আসে, যা ২০০০ সালের তুলনায় ৫২ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশক। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে শিশু মৃত্যুহার কমানোর অগ্রগতি ধীর হয়েছে, কারণ কোভিড মোকাবিলায় সাহায্যের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছিল।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেছেন, 'প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যুর হার রেকর্ড সর্বনিম্নে নামিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে যথাযথ নীতি ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া এই সাফল্য বিপন্ন হতে পারে, যা আমরা ঘটতে দিতে পারি না।'
সহায়তা হ্রাসের ফলে ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে—স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি, ক্লিনিক বন্ধ হওয়া, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া এবং ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার মতো জরুরি সরঞ্জামের অভাব।
উদাহরণ হিসেবে ইউনিসেফের স্বাস্থ্য-বিষয়ক সহযোগী পরিচালক ফৌজিয়া শফিক বলেন, ইথিওপিয়ায় ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়ছে, কিন্তু দেশটি রোগ নির্ণয় পরীক্ষা, কীটনাশকযুক্ত মশারি ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানোর জন্য তহবিল সংকটে পড়েছে।
একটি পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ লাখ মৃত সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নারী এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় যথাযথ যত্ন নিলে অনেক নবজাতকের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। এছাড়া নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে শিশু মৃত্যুহার আরও কমানো সম্ভব।