মাদারীপুরে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড
মাদারীপুর সদর উপজেলার কোটবাড়ী শ্রীনদী এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া আক্তার রিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসাম্মত দিলরুবা সুলতানা এ আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার কোটবাড়ী শ্রীনদী গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মাহমুদুল হাসান মধু এবং জালাল মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লা। রায় ঘোষণার সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদী পক্ষের লোকজন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কোটবাড়ী শ্রীনদী গ্রামের গাউস নপ্তীর মেয়ে রাবেয়া আক্তার রিয়া ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর বিকেলে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।
এই ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা গাউস নপ্তী বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করেন।
পরে পুলিশ তদন্ত করে একই গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মাহমুদুল হাসান মধু এবং জালাল মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লার সম্পৃক্ততা পেয়ে ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ ৮ বছর পরে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসাম্মত দিলরুবা সুলতানা দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বাদী গাউস নপ্তী বলেন, আমরা রায়ে খুশি। দ্রুত দোষীদের শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
বাদী পক্ষের আইনজীবী লিয়াকত হোসেন শিকদার জানান, এই মামলার দুই আসামি মাদারীপুর সদর উপজেলার কোটবাড়ী শ্রীনদী গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মাহমুদুল হাসান মধু এবং জালাল মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লাকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া উভয় আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন আদালত।
এ মামলা শেষ হতে দীর্ঘ ৮ বছর কেন লাগলো এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি পক্ষ সাক্ষীদের জেরা করতে বারবার সময় নিয়েছে। তারা মামলাটির বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করায় দেরি হয়েছে।