কুমির চাষের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে
বর্তমান বিশ্বে কুমির চাষ একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি ব্যাগ, জুতা, বেল্টসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। এই বাস্তবতায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে-কুমির চাষ করা, জবাই করা এবং এর চামড়া ব্যবহার বা রপ্তানি করা শরিয়তসম্মত কি না?
ইসলামী শরিয়তে কুমির খাওয়া জায়েজ নয়। কারণ কুমির জল ও স্থল উভয় পরিবেশে বাস করলেও এটি হিংস্র প্রাণী এবং এর প্রকৃতি হারাম প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। আর রাসুল (সা.) বলেন, প্রত্যেক সেই হিংস্র প্রাণী (খাওয়া) নিষেধ করেছেন, যার দাত (নখর/দাঁত) দিয়ে সে শিকার করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৩৪)
যদিও কুমির খাওয়া হারাম, কিন্তু এর চামড়া ও হাড় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে ফিকহের মূলনীতি হলো, যে জিনিস নিজে খাওয়া হারাম, তা যদি অন্যভাবে উপকারী হয়, তবে সেই উপকার গ্রহণ করা বৈধ হতে পারে। (শারুহু কানজুদ দাকায়েক, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫১২)
ইমাম আবু লায়স (রহ.) বলেন, সাপ যদি ওষুধে উপকারে আসে তবে তা বিক্রি করা জায়েজ; উপকার না থাকলে জায়েজ নয়।’ এখান থেকে বুঝা যায়, যে প্রাণী দ্বারা বৈধ উপকার পাওয়া যায়, তা বিক্রি ও ব্যবহার বৈধ হতে পারে। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা : ১১৮)
কুমির চাষ ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; বরং এটি একটি শর্তসাপেক্ষ বৈধ শিল্প। যদি এর মাধ্যমে বৈধ উপকার অর্জিত হয়-যেমন চামড়া শিল্প, অর্থনৈতিক উন্নতি-এবং এতে মানুষের ক্ষতি বা শরিয়তবিরোধী কোনো দিক না থাকে, তবে তা জায়েজ।