শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
পর্যটন

খুলনায় স্থাপন করা হচ্ছে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 মে 2026, 04:32 দুপুর • 135 বার পঠিত
খুলনায় স্থাপন করা হচ্ছে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

খুলনা মহানগরীর বাস্তুহারা, রূপসা চর, গ্রিনল্যান্ড ও মন্টুর কলোনীতে বাস্তবায়িত হচ্ছে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প। মূলত: শহরব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বাস্তুহারায় ২টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ইউনিসেফ-এর আর্থিক সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ‘বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীল টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন-কেসিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

কেসিসি’র সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরী এলাকার নিম্ন আয়ের কমিউনিটিতে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রমের আওতায় খুলনা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পরিশোধন করে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব পাত্র নিয়ে প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে অথবা এটিএম বুথ অপারেটরের কাছ থেকে পানি নিতে পারছেন। যার প্রতি লিটারের মূল্য মাত্র ৬০ পয়সা। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত ১০টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ও রক্ষণাবেণের জন্য কেসিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি শিশু কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা হবে।

কেসিসি’র সূত্র বাসস’কে জানায়, প্রকল্প এলাকায় যৌথ টয়লেট অকার্যকর বা অব্যবহৃত এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা কম থাকায় প্রায় ৪৭% শতাংশ মানববর্জ্য ড্রেন বা ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচিত এলাকায় ভালোমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় মানব বর্জ্যসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত।

জায়গার তীব্র সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও কার্যকর পরিশোধন এবং নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শতভাগ নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করে পরিবেশ দূষণ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত ১০টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ও রক্ষণাবেণের জন্য কেসিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি শিশু কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা হবে।

এদিকে, খুলনা মহানগরী এলাকার নিম্ন আয়ের কমিউনিটিতে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রমের ইনসেপশন সভা সোমবার নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি’র প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। 

এ সময় তিনি বলেন, মহানগরীতে পানি সরবরাহের কার্যক্রম ওয়াসা পরিচালনা করলেও তাদের পরিষেবা সব এলাকায় এখনো পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে নিম্নআয়ের বসতিতে পানীয় জলের সংকট রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ময়ূর নদীকে কেন্দ্র করে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ময়ূর নদী না বাঁচলে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না। ময়ূর নদীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি পর্যটন এরিয়ায় রূপান্তরের জন্য তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্ক দাতা সংস্থার প্রতি আহবান জানান। একই সাথে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিকায়নের জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথভাবে কাজ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

সভায় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারী ইগনে কাসেন ও ইউনিসেফ-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর পিটার মাস।

অন্যান্যের মধ্যে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান, গাজী মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. নাজিয়া হাসান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ, প্রজেক্ট ডাইরেক্টর মো: সাইফুর রহমান, ইউনিফেস-খুলনার বিভাগীয় প্রধান মো: কাওছার হুসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর-খুলনার উপপরিচালক মিহির লাল সরদার, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ও মো. অহিদুজ্জামান খান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ ও খান হাবিবুর রহমান প্রমুখ কর্মশালায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন। 

বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেসিসি’র আর্কিটেক্ট রেজবিনভ খানম এবং সভা পরিচালনা করেন সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রহিম। 

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।