শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

খেলার মাঠ রক্ষায় নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশের দাবি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 29 জুলাই 2025, 07:21 বিকাল • 658 বার পঠিত
খেলার মাঠ রক্ষায় নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশের দাবি

সারা দেশে খেলার মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমাবেশ ও পদযাত্রা।

সমাবেশে নগরবিদ ও পরিবেশবাদী ইকবাল হাবিব বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান রক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। তা না হলে দলগুলোকে নির্বাচনের আগে তরুণ সমাজের মুখোমুখি হতে হবে।

গ্রিন ভয়েসের ‘পদযাত্রা ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৯টি সংগঠন অংশ নেয়। ইকবাল হাবিব বলেন, “নতুন সনদ বা সংস্কারের আলোচনায় বারবার পরিবেশ ও উন্মুক্ত স্থান উপেক্ষিত হচ্ছে। এতে তরুণদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে। আমরা চাই, এই স্মারকলিপিতে সব রাজনৈতিক দল ও প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করুন।”

নারী ফুটবল দলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনছে, অথচ নগরগুলোতে তাদের খেলার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই—এটা চরম বৈষম্য। এর বিরুদ্ধে অন্তর্ভুক্তির লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”

সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, “সরকার নিজের বানানো আইন নিজেই ভঙ্গ করছে। রাজধানীর সরকারি হাউজিং প্রকল্পগুলোতে মাঠ নেই। মানুষ বাড়ছে, মাঠ কমছে—এটা দুঃখজনক। মাঠ শুধু খেলোয়াড় নয়, প্রবীণদের অবকাশের স্থানও।”

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে বর্তমানে ৫৪টি নিবন্ধিত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে, যা ৩০৫ একরজুড়ে বিস্তৃত। অর্থাৎ প্রতি হাজার নাগরিকের জন্য রয়েছে মাত্র ০.০২ একর উন্মুক্ত স্থান। এরও বড় একটি অংশ দখল ও অননুমোদিত ব্যবহারে জনগণের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, “তথাকথিত উন্নয়নের নামে খালি জায়গা দখলদারি ও মাদকাসক্তদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। জনগণের জায়গা জনগণের জন্যই উন্মুক্ত করতে হবে।”

গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের মাঠ রক্ষায় পথে নামতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত লজ্জার।” তিনি স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবি পাঠ করেন, যেখানে মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান রক্ষায় পরিকল্পিত তালিকা প্রণয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যৌথ ব্যবস্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণ, ‘আন্তসবুজ সংযোগ’, এবং স্কুল–কলেজের মাঠ উন্মুক্ত করার মতো বাস্তবধর্মী সুপারিশ রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে পদযাত্রা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে রওনা দেয়। শাহবাগে পুলিশ বাধা দিলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে গ্রিন ভয়েসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিন সারা দেশের জেলা-উপজেলায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং বিভিন্ন দখল হওয়া মাঠ রক্ষায় স্থানীয় কর্মসূচিও নেওয়া হবে।