শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

জ্বালানির চাপে পাকিস্তান, রাত ৯টায় বন্ধ হবে বাজার

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 18 সেপ্টেম্বর 2026, 11:38 দুপুর • 46 বার পঠিত
জ্বালানির চাপে পাকিস্তান, রাত ৯টায় বন্ধ হবে বাজার

জ্বালানির দাম বাড়ার ধাক্কায় আরও চাপে পড়েছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির সরবাজার দ্রুত বন্ধ করা থেকে সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ কমানো-সংকট মোকাবিলায় এসব সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে পাকিস্তানের দৈনন্দিন জীবন।১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৪ দশমিক ১০ পাকিস্তানি রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ৪১ রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দে১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হলে পেট্রলের দাম দাঁড়ায় ৩৮৪ দশমিক ৩৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৪১৫ দশমিক ৮৩ রুপি।এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েনতুন হিসাবে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৩৯১ দশমিক ২২ রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৪২১ দশমিক ৪৫ রুপি হয়েছে।দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমাতে সরকার জ্বালানি ভর্তুকিও চালু করেছে।মোটরসাইকেল, রিকশা এবং ৮০০ সিসি পর্যন্ত ছোট গাড়ির জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সুবিধা পেতে গিয়ে অনেক মানুষ নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন।করাচির বাসিন্দা মোহাম্মদ মুশাররফ জানান, মোটরসাইকেল ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নিবন্ধনের জন্য কয়েক দিন চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। এত জটিল প্রক্রিয়া থাকলে অশিক্ষিত মানুষ কীভাবে এই সুবিধা পাবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

জ্বালানি সংকট ও বাড়তি খরচ সামাল দিতে সরকার এবার বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ তিন মাসের জন্য ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমের গাড়ি এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

দোকান, বাজার, শপিংমল ও সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল ও অনুষ্ঠানস্থল রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও আলাদা সবজি-ফলের দোকান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

চলতি অর্থবছরে অ-কর্মচারী খাতের সরকারি ব্যয় ৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। জরুরি ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। সরকারি বৈঠক যতটা সম্ভব অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে আয়োজিত নৈশভোজ, সেমিনার ও সম্মেলনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি অতিথি বা প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠান এর বাইরে থাকবে।

নতুন সরকারি গাড়ি এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ক্রয় ছাড়া নতুন টেকসই পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি মাত্র পদ পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান এর আগেও জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে জ্বালানি সংরক্ষণে সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমানোসহ বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে জুনে অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও বাজার বন্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা বহাল ছিল। এখন জ্বালানির দাম আবার বাড়ায় নতুন করে কড়াকড়ি শুরু করেছে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপ সামলাতেই সরকার একদিকে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয় কমাতে কঠোরতা বাড়াচ্ছে।