শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

জুনেই পেশ হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট: অর্থ উপদেষ্টা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 25 ফেব্রুয়ারি 2025, 04:34 দুপুর • 416 বার পঠিত
জুনেই পেশ হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট: অর্থ উপদেষ্টা

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক  শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট আগামী জুন মাসেই পেশ করা হবে। এছাড়া, রোজার পর মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোজার সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। চাল, ডাল, চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে, এবং চিনির দাম ইতোমধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছে। তবে বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করে যেন সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কয়েকদিন আগেও বলেছি, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আবারও সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি হলে জীবনযাত্রার মান কমে যায়। আমদানির ওপর নির্ভরতা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ ফেলেছে, তবে আমরা ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছি।”

বিস্কুটের ওপর ভ্যাট কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “অনেকেই এখন আর লেখে না যে বিস্কুট কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভ্যাট কমানোর বিষয়টি রোজার কথা মাথায় রেখে বিবেচনা করা হবে।”

বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা শোনা যাচ্ছে- এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেছি। বাজেটটা জুনের পরে কারো জন্য অপেক্ষা করে না। অনেকগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছে। কোনো সময়ই বাজেট অপেক্ষা করেনি। রিভাইস বাজেট তো আমাদের করতেই হবে। বাজেটটা আমরা জুনের মধ্যেই দেবো।

বাজেট প্রণয়নে প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমরা জানিয়ে দেবো তারা যদি মনে করে রিভাইজ করবে, তাহলে তারা রিভাইজ করবে। আমরা এখন আগের সরকারের বাজেট রিভাইজ করছি না?

ব্যবসায়ীদের ডলার সংকট নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজারে ডলারের সংকট নেই, আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও মতামত বিভিন্ন রকম হয়, তাই সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফ্যাক্টরি, গুদাম এবং মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশে কিছু অর্থ পাঠানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি এটি দেশের স্বার্থবিরোধী বা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্থ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”