জুনে সড়কে প্রাণ গেছে ২০৪ মোটরসাইকেল আরোহীর
গত জুন মাসে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০৪ জন আরোহী। এটা বাংলাদেশের রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব। তাদের মতে, মোরটসাইকেলের দুর্ঘটনার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ‘ভয়াবহ পরিণতির দিকে’ যাচ্ছে।
গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে এই সময়ে অনেকে বেছে নিচ্ছেন মোটরসাইকেলকে। কিন্তু এই দেশ এর জন্য তৈরি কি না তা কতিয়ে দেখেছে কি কেউ? তা দেখা হয় না বলেই এতো বেশি মোটর বাইক দুর্ঘটনা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, গণপরিবহনের সেবাপ্রাপ্তি সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত করে, যানজট কমিয়ে এনে মোটর সাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা ‘অতি জরুরি’।
আজ সোমবার রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে দেশে ৪৬৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮২১ জন আহত হয়েছেন।
১৯৭টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসেবে মোট দুর্ঘটনার ৪২. ১৮ শতাংশ মোটরসাইকেলের। আর মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঘটেছে মোটরসাইকেলে।
জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র
>> ৩০ দিনে নিহত ৫২৪; নারী ৬৮, শিশু ৭৩
>> সবেচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে; ১১৭ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৩৯ জনের
>> একক জেলা হিসেবে দুর্ঘটনায় শীর্ষে ঢাকা; ২৯ দুর্ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানি
>> সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে; ১৩ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৪ জনের
>> রাঙামাটি, মাগুরা, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নয়টি দুর্ঘটনা হলেও কেউ নিহত হয়নি এ মাসে
>> ৩৭.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৩৪.০৪ শতাংশ, গ্রামীণ
সড়কে ১৫.৪১ শতাংশ, শহরের সড়কে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে
>> কোনো না কোনো যানবাহনের চাপায় নিহতদের মধ্যে পথচারী ১০৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ২০.৪১ শতাংশ।
>> দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে যানবাহন চালক বা সহকারী ছিলেন ৮৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৬.৪১ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোট ৭৯৩টি যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়েছে; এর মধ্যে ২১২টি, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৩ শতাংশই মোটরসাইকেল।
এছাড়াও ১৩০টি ট্রাক, ৭৮টি বাস, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৫৪টি পিকআপ, ১১টি ট্রলি, ১৩টি ট্রাক্টর, ১৪৯টি তিন চাকার যান, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৫১টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম-চান্দের গাড়ি), ২৩টি অযান্ত্রিক যান (বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-প্যাডেল ভ্যান), পাঁচটি লরি, দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার, দুটি প্রিজনভ্যান, একটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক, আটটি মাইক্রোবাস, চারটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি জিপ, একটি পুলিশের
পিকআপ, একটি সেনাবাহিনীর ট্রাক, এবং নয়টি অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়েছে।