জুলাইয়ে কম বৃষ্টির রেকর্ড, আগস্টেও বেশি গরমের সম্ভাবনা
এবারের জুলাই-আগস্ট অন্যবারের মতো না। জুলাইয়ে দেশে ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে। চলমান আগস্টেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। এই সময়ে উল্টো দেশে বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। অন্যান্য আগস্টের চেয়ে এবারের আগস্টে দিন-রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ার চরিত্র হলো, এই দেশে জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার আবহাওয়া ছিল ভিন্ন। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এই মাসে তারা ৫০০ মিলিমিটার গড় বৃষ্টিপাত আসা করেন। কিন্তু গত মাসে গড় বৃষ্টি হয়েছে ২১১ মিলিমিটার।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ১৯৮০ সাল থেকে বৃষ্টিপাতের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ করছে। তাদের হিসেব মতে, এবারের জুলাইয়ের মতো এত কম বৃষ্টি আগে কখনো হয়নি। তারা জানায়, এর আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে দেশে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৫৫৩ মিলিমিটার। গত বছরে তা ছিল ৪৭১ মিলিমিটার।
শুধু যে বৃষ্টিতে নিয়ম ভেঙেছে জুলাইয়ের আবহাওয়া তা নয়, তাপমাত্রার দিক থেকেও ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এই সময়ে তাপমাত্রা অন্য বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ছিল বেশি। আসলে তা গেল ৩ দশকের মধ্যেই সর্বোচ্চ ছিল। জুলাইয়ে দেশের গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জুলাইয়ের ১৮ দিন দেশের কোথাও না কোথাও দাবদাহ ছিল। ১৫ দিন ছিল টানা দাবদাহ। এটা রেকর্ড। রেকর্ড হয়েছে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ উষ্ণতার দিক দিয়েও।
এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগস্ট দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই মাসের তাপমাত্রাও ভিন্ন রকম থাকবে বলে উল্লেখ করেছে।
তারা জানায়, আগস্ট মাসে ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৩১২ মিলিমিটার। কিন্তু পূর্বাভাস বলছে ঢাকা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। অনুরুপভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিক ৫৫৬ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ৫০০ থেকে ৬১০ মিলিমিটার, সিলেটে স্বাভাবিক ৪৫৬ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ৪১০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে স্বাভাবিক ৩৪০ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ৩০৫ থেকে ৩৭৫ মিলিমিটার, রাজশাহীতে স্বাভাবিক ২৭৯ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০৫ মিলিমিটার, রংপুরে স্বাভাবিক ৩৮০ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ৩৪০ থেকে ৪১৫ মিলিমিটার, খুলনা স্বাভাবিক ২৯১ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ২৬০ থেকে ৩২০ মিলিটার এবং বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক ৪৩৩ মিলিমিটার, পূর্বাভাস পরিমাণ ৩৯০ থেকে ৪৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।