শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 10 আগস্ট 2026, 01:26 দুপুর • 72 বার পঠিত
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্থাপিত সব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলেছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, “জুলাই জাদুঘরে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য স্থাপন শরিয়তের সাথে চরম উপহাস। আলেমদের আত্মত্যাগের সাথে এক ধরণের বৈপরীত্য ও উপহাস।

‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে, জুলাই জাদুঘর থেকে এই ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।”

ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারো নেই।

“যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামি বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এই ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে। এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য!”

বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে সরকারের কাছে দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। প্রস্তাব দুটি হচ্ছে, জুলাই আন্দোলনের সঠিক ও ‘বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস’ ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিগুলো সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।

এছাড়া ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে ‘মোদীবিরোধী আন্দোলনে আলেম ও তৌহিদী জনতার ত্যাগ’ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে হেফাজতে ইসলাম।