শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে এলেই শুরু হয় প্রতিবাদ।

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 27 সেপ্টেম্বর 2025, 08:12 রাত • 254 বার পঠিত
জাতিসংঘে নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে এলেই শুরু হয় প্রতিবাদ।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে এলেই শুরু হয় প্রতিবাদ, বেরিয়ে যান অনেক প্রতিনিধি

ফিলিস্তিনে চলমান আগ্রাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় অনেক দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষ বর্জন করেন। নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে বড় বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের চতুর্থ দিন ছিল শুক্রবার। এদিন ভাষণের জন্য নেতানিয়াহুর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। প্রতিনিধিরা যখন অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত অনেকে হাততালি দেন। এ সময় শিস বাজাতেও শোনা যায়।

 

পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বললেও তাতে কাজ হয়নি। পরে নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সামনের আসনগুলো ফাঁকা দেখা যায়। প্রায় সব আরব ও মুসলিম দেশ, আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন বর্জন করেছিলেন।জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্য, গাজা সংঘাত, ইরানসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ঠিক একই সময়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ভবনের কাছে গাজায় জাতিগত নিধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের হাতে বন্দী জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে এদিন নিউইয়র্কে বিক্ষোভ করেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইসরায়েলি ও ইহুদিরাও।

 

এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনে গাজা সংকট বড় গুরুত্ব পেয়েছে। মঙ্গলবার অধিবেশন শুরুর আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে পশ্চিমা ১০ দেশ। অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। যেমন জাতিগত নিধনের অভিযোগে নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তোলার দাবি জানান চিলির প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েল বরিচ।

 

ইতিমধ্যে আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আইসিসি। সে কারণে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে ফ্রান্সের আকাশসীমা এড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর উড়োজাহাজ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ইসরালের সবচেয়ে বড় মিত্র আর আইসিসির সদস্য নয়, তাই সেখানে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা নেই।টাইমস স্কয়ারে মানুষের ঢল

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের দিন শুক্রবার ভোর থেকেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ভবনের কাছে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হতে থাকেন বহু মানুষ। বেশির ভাগই তরুণ। অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। তাতে লেখা ছিল ‘ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করুন’, ‘নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করুন’, ‘গাজাকে অনাহারে রাখা এখনই বন্ধ করুন’—এমন সব স্লোগান।

 

নিউইয়র্ক টাইমস–এর খবরে বলা হয়, টাইমস স্কয়ারে বিক্ষোভ সমাবেশের এক পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেছেন। তখন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষে তাঁরা জাতিসংঘ ভবনের দিকে যাত্রা শুরু করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে পৌঁছায়।

 

এই বিক্ষোভকারীদের একজন ব্রুকলিন এলাকার বাসিন্দা ডেভিড রবিনসন (৬৪)। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের মানুষ বলে মনে করা হয় না। এটি (হত্যাযজ্ঞ) ঘটেই যাচ্ছে, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব আমার হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।’

 

গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছান নেতানিয়াহু। সেখানে ম্যানহাটান এলাকায় যে হোটেলে তিনি অবস্থান করছেন, তার বাইরেও বিক্ষোভ করেছেন ইহুদি ও ইসরায়েলি প্রবাসীরা। এ সময় তাঁদের ‘যুদ্ধ বন্ধ করুন’, ‘তাঁদের (জিম্মি) সবাইকে মুক্ত করুন’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। ড্রামের শব্দের তালে তালে অনেকেই বলছিলেন, ‘সামরিকভাবে এর (সংঘাত) সমাধান হবে না