শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 09 জুন 2025, 09:14 রাত • 166 বার পঠিত
জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও চঞ্চলতায় মুগ্ধ শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। বিশেষ করে ভোঁদড়, কানিবক, হরিণ ও বানরদের দেখে খুশি দর্শনার্থীরা।

মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে হরিণের খাঁচা। সেখানে দেখা গেছে প্রায় ত্রিশটির মতো হরিণকে শসা, লাউ খেতে। কেউ কেউ আবার পপকর্ন দিলেও খাচ্ছিল হরিণগুলো। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মো. রাকিব জানান, প্রায় ১৫ বছর পর পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন।

এরপরের গন্তব্য বানরের খাঁচা। এক দর্শনার্থী বানরকে বাদাম ছুড়ে দিলে তাতে কোনো আগ্রহ দেখায়নি বানরটি। পাশেই শিশুদের কেউ কেউ ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টাও করে। বারবার ঘোষণা শোনা গেছে প্রাণীদের বিরক্ত না করার অনুরোধে।

পাখির খাঁচাতে ছিল কানিবক, পানকৌড়ি, পেলিকান, গ্রেটার ফ্লেমিংগো, কালেমসহ নানা প্রজাতি। এক শিশু বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করছিল, ‘বাবা, এই পাখিরা মাছ কই পায়?’ কামরাঙ্গীরচরের মো. আকাশ তার সন্তানদের নিয়ে পাখি দেখতে এসেছেন—টেলিভিশনের বদলে বাস্তবে পাখি দেখে খুশি তার মেয়ে জেসমিন।

সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল মাংসাশী প্রাণীদের খাঁচায়। বেঙ্গল টাইগার ‘টগর’ ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এক শিশু বাবাকে জিজ্ঞেস করল, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার কই?’ দেখিয়ে দিলে বলে উঠল, ‘দেখেছি, এবার ভালুক দেখব।’

ভোঁদড়দের পানিতে লাফালাফি, ডুব-সাঁতার আর জলবিলাস দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ। এক শিশু বলে উঠল, “উদ উভচর প্রাণী।”

চিড়িয়াখানার পুরনো ঘটনা মনে করে হাতির খাঁচার সামনে দাঁড়িয়েও কেউ কেউ আলোচনা করেছেন ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল ঈদে মাহুতের ছেলের মৃত্যু ঘটনার কথা।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “এবার ঈদের দিনগুলোতে আজই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে। আজ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন হয়েছে।”

চিড়িয়াখানার কিছু তথ্য:

  • আয়তন: প্রায় ১৮৭ একর

  • পশুপাখির সংখ্যা: প্রায় ৩,৩৩২টি

  • প্রজাতি: বাঘ, সিংহ, হরিণ, ভালুক, জিরাফ, হায়েনা, জলহস্তী, নানা প্রজাতির পাখি ও সাপ

সব মিলিয়ে চিড়িয়াখানার ঈদ আয়োজন দর্শনার্থীদের দিয়েছে আনন্দ, শিশুরা পেয়েছে প্রাণীদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ।