জানুয়ারিতে দুই পর্বে উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরা এর ইজতেমা, সাদপন্থিদের সিদ্ধান্ত হয়নি
তাবলিগ জামাতের উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরা এর ইজতেম আগামী বছর জানুয়ারিতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা করবেন।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এই পক্ষের ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব হবে।
তবে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার তাবলিগ জামাতের সাদপন্থি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরার ইজতেমার সম্ভাব্য সূচি তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগে একদিন তিনি উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে যে আলোচনা হয়েছিল, এবং জানুয়ারিতে তাদের ইজতেমার দুই পর্বের যে তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল, তা বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সাদপন্থিদের জানিয়েছেন।
তাবলিগ জামাতের মধ্যে নেতৃত্ব ও মতাদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কার্যক্রম মূলত মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরা অনুসারীদের দুটি ধারায় বিভক্ত। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়েও কয়েক বছর ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের শেষ সময়ে আর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি।
তবে তার আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বলা হয়েছিল, মাওলানা সাদের অনুসারীরা সেবারই শেষবারের মত টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করবেন। তার পর থেকে তাদের ইজতেমা অন্য কোথাও হবে, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর তিনি যখন উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরার সঙ্গে বৈঠক করেন, তারা ওই সার্কুলারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দাবি তোলেন, সাদপন্থিরা যেহেতু তখন ‘সম্মত হয়েছিল’, সেহেতু এবার তারা আর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহার করতে পারবে না।
“আজকে আলোচনায় দেখা গেল যে এটাতে এই সাদপন্থিগণ একমত নন। এবং তাদের দাবি হচ্ছে যে এটা কীভাবে কারা সই করেছে, তারা জানেন না। আমরা তো সরকারের দায়িত্বে তখন ছিলাম না। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সাথে উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এটা অনুষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তে তারা এসেছিলেন এবং সবাই তখন একমত হয়েছিলেন।
“এখন তাদের (সাদপন্থিদের) দাবি হচ্ছে, এই দুই পর্বে উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের পরে একটা রিজনেবল, একটা যৌক্তিক সময় গ্যাপ দিয়ে তারা সেই একই ইজতেমা মাঠে এক পর্বে অনুষ্ঠান করতে চান।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ বিষয়টা নিয়ে আমরা অপর পক্ষের সাথে আলোচনা করব, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা যারা সংশ্লিষ্ট এবং গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সাথে আমরা কথা বলব।
“সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। যাতে কোনো রকমের সংঘর্ষ না হয়, যেহেতু ইতোপূর্বে সেরকম নজির হয়েছে, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য আমরা এটা লক্ষ্যে রেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,আগামী জানুয়ারিতে দুই পর্বের যে ইজতেমা হবে, তাতে উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরা অংশ নেবেন।
“সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে, তারা (উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরা) করার পরে এবং রমজান শুরুর আগে যে মধ্যবর্তী সময়, সেই সময়ে তারা একটা পর্বে তাদের ইজতেমাটা করবেন। অথবা এই দুই পর্ব শুরু হওয়ার আগে নভেম্বরের শেষ দিকে করবেন। এটা হচ্ছে তাদের প্রস্তাব।
“আমরা বলেছি, অপর পক্ষের সাথে আলোচনা করব এবং আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরে আমরা সিদ্ধান্ত জানাব।”
ইজেতেমা মাঠ ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাদপন্থিরা টঙ্গীর বদলে অন্য কোথাও ইজতেমা করলে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করার কথা তিনি বলেছিলেন। কিন্তু তারা তাতে রাজি নন।
দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তাদের মধ্যে যেন একটা সমঝোতার প্রচেষ্টা নেয় সবাই। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি।”
উলামায়েকেরামেপন্থী আলমি শুরার আরেকটি দাবি হল, অপরপক্ষের শীর্ষ নেতা দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি যেন বাংলাদেশে এসে ইজতেমায় অংশ নিতে না পারেন। তাকে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে রাখেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ভিসা নীতি অনুসারে ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে, সে হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত দেবে।”