শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘বিস্মিত’ মেয়র শাহাদাত

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 সেপ্টেম্বর 2026, 10:42 দুপুর • 82 বার পঠিত
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘বিস্মিত’ মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে তার থাকা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মন্তব্যে ‘বিস্মিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি মনে করেন, জামায়াত প্রধান ওই বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিজমকে অনেকটা সাপোর্ট করে গেছেন’।

শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সিটি মেয়র শাহাদাতের মেয়াদ নিয়ে কথা বলেন।

এর জবাবে সেদিন রাত ১২টার পর নিজের ফেইসবুক পেইজে ৬ মিনিটের একটি ভিডিও বক্তব্য দেন মেয়র শাহাদাত।

রোববার দুপুর পর্যন্ত ১ লাখ ৯৮ হাজারবার ভিডিওটি দেখা হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার মন্তব্য পড়েছে। ভিডিওটিতে রিঅ্যাকশন পড়েছে প্রায় ২০ হাজার।

শনিবার রাতে লালদীঘির মাঠে দেওয়া বক্তব্যে আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকার একই রাস্তা ধরে হাঁটছে দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম তার আরেকটা বাস্তব প্রমাণ। এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার কি মেয়াদ এখনো আছে? উনাকে কি বলব আমরা? মেয়াদোত্তীর্ণ বলব তাই না?

“এখন শুনি যে উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। আচ্ছা বলেন এর নাম সুশাসন না এর নাম ফ্যাসিবাদ।”

তিনি বলেন, “আপনি আসেন আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সাথে আপনি নেতৃত্ব দেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।”

রাতে পোস্ট করা ভিডিওতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “এ অবস্থায় এসে উনার এই বক্তব্য, আমি আসলেই সত্যি বিস্মিত হয়েছি। এবং আমি মনে করি এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উনি আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট কায়দায় যে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল ২০২১ সালে রেজাউল করিম, তাকে উনি বৈধভাবে মেয়র হিসেবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এই কথার মাধ্যমে উনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে সেখানে অনেকটা সাপোর্ট করে গেছেন।”

মামলা করে আদালতের রায়ে মেয়র হওয়ার কথা জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সেখানে জামায়াতের আমির সাহেব বলছেন যে, ‘ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হচ্ছে’।

“আমি বলতে চাই যে, উনার এ কথার মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, আওয়ামী লীগের যে ফ্যাসিবাদী সময় যে পাঁচ বছর, সেই পাঁচ বছরকে উনি বলতে চাচ্ছেন বৈধ সময়। কিন্তু রায়ে স্পষ্ট বলা আছে, আওয়ামী লীগের যে মেয়র ছিল সে অবৈধ এবং তার যে মেয়াদ সেটাও অবৈধ। কাজেই আমার মেয়াদ ২০২৪ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমি শপথ নিয়েছি। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ হবে।”

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে শাহাদাত হোসেন বলেন, “আজকে আমরা একটা লং ড্রাইভ দেখেছি। এটাকে আমি লং মার্চ বলবনা। লং ড্রাইভ বলব। যেখানে তারা বলছে- বিদ্যুৎ দে, পানি দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে। এত গ্যাস-ফুয়েল ব্যয় করে তারা একটা লং ড্রাইভ করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি তারা করতে পারেন।

“জামায়াতের সম্মানিত আমির শফিকুর রহমান সাহেব বলেছেন লালদীঘিতে যে, মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বলেছেন আমাকে। আমি এটা বলতে চাই যে, আমার এই রায়টি ফ্যাসিবাদী রাজত্ব যারা ১৬ বছর কায়েম করেছে, হাসিনা সরকার। তারা জোর করে আমার রায়টা ছিনিয়ে নিয়ে যিনি অবৈধভাবে মেয়র হয়েছিলেন, রেজাউল করিম।”

তিনি বলেন, “এর বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বৈধভাবে আমাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাই কোর্টের রায় দেওয়া হয়েছে। সেই অনুসারে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং আমি শপথ নিয়েছি। রায়টি হয়েছে ৫ অগাস্টের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, সেখানে আজকে যারা জামায়াতে ইসলামীর সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা আছেন, সেখানে এই ছাত্রনেতারা সরকারের বিভিন্ন পদে অধীন ছিলেন।

“জনগণের প্রত্যাশিত রায়। তিন বছর ধরে আমি ফাইট করেছি। মামলাটি করার জন্য ছয় মাস ধরে আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ বছরে আমার ১১০টির উপর মামলা।”

শাহাদাত হোসেন বলেন, “কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমি বারবার বলে এসেছি, যখনই একটি নির্বাচন চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচন করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। সবারই অধিকার আছে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার। সবাই মিলেই একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আমরা করতে চাই।”

তিনি বলেন, “বরাবরই ছাত্রজীবন থেকে নির্মল পলিটিক্স করে এসেছি। গণতন্ত্রকে সম্মান করেছি। গত ১৭ বছর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছি। বারবার বলছি যদিও কোর্টের রায় অনুযায়ী আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল।

“কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ যখনই চট্টগ্রামের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, সেদিনই আমি আমার পদ থেকে সরে দাঁড়াব। একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাব। এই নির্বাচনে যারাই অংশগ্রহণ করতে চায়, অবশ্যই তারা অংশগ্রগণ করবে।”