ইউরোপ-আমেরিকায় ওমিক্রনের ঢেউ, রেকর্ড সংখ্যায় সংক্রমণ
মহামারী করোনাভাইরাসের শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক দিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় কোভিড সংক্রমণ শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে।
বিশ্বজুড়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের অব্যাহত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৪০ হাজার নতুন সংক্রমণ শনাক্ত করার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ফ্রান্স, ইতালি, গ্রীস, পর্তুগাল এবং ইংল্যান্ডেও সোমবার রেকর্ড সংখ্যায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, ক্রিসমাসের ছুটির কারণে কোভিড সংক্রমণের তথ্য আসতে দেরি হচ্ছে, সোমবার রেকর্ড সংখ্যায় নতুন সংক্রমণের তথ্য এসে পৌঁছানোর কারণ হয়তো সেটি।
বিভিন্ন গবেষণায় অবশ্য বলা হচ্ছ, এর আগের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রন অনেক দুর্বল। কিন্তু তারপরও আশংকা থেকে যাচ্ছে, যে রকম হারে ওমিক্রন সংক্রমণ ঘটছে, তাতে হাসপাতালগুলো রোগীর চাপে হিমসিম খেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ওমিক্রন এখনো এক মারাত্মক ঝুঁকি।
পোল্যান্ডে বুধবারের হিসেবে একদিনে কোভিড সংক্রান্ত কারণে ৭৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোভিডের চতুর্থ ঢেউয়ে সে দেশে এটাই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। যারা মারা গেছে, তাদের তিন চতুর্থাংশেরও বেশি কোন টিকা নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ২৭ ডিসেম্বর সেদেশে পরীক্ষায় কোভিডে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা আরও ৪ লাখ ৪১ হাজার ২৭৮ জন বেড়েছে। এটি সিডিসির হিসেবে এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা।
সিডিসির একটি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সাত দিনের গড় হিসেব করলে, প্রতিদিন যত মানুষের কোভিড ধরা পড়েছে, এত বেশি এ বছরের জানুয়ারির পর আর দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার ফ্রান্স জানিয়েছে সে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭টি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জানুয়ারির শুরুর দিকে ফ্রান্সে দৈনিক সংক্রমণ আড়াই লাখে পৌঁছাতে পারে। ফ্রান্সের হাসপাতালগুলের ফেডারেশন বলেছে, সবচেয়ে খারাপ সময়টা হয়তো এখনো আসার বাকী আছে।