শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ইতালি যেতে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি, লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 অক্টোবর 2026, 12:52 দুপুর • 55 বার পঠিত
ইতালি যেতে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি, লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন

ইতালি পাঠানোর কথা বলে নোয়াখালীর এক যুবককে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ঢাকার আশকোনা হাজি ক্যাম্প এলাকায় 'সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের' সামনে থেকে সোমবার তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি বলছে, তারা মানবপাচার চক্রের সদস্য।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল।

অভিযোগের বিষয়ে সিআইডি মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই যুবককে গত এপ্রিলে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার করা হয়েছিল। সেখানে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরব ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে বিমানের এক সহযাত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তিনি এই মানবাপাচার চক্রের ফাঁদে পড়েন। ওই চক্র বুক্তভোগী যুবককে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে। সে অনুযায়ী গত ৫ এপ্রিল আশকোনার একটি অফিসে নিজের পাসপোর্ট এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন ওই যুবক।

এর একদিন পরেই ৭ এপ্রিল ওই যুবককে প্রথমে ভারতের দিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। কলম্বোয় প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে পাঠানো হয় মিশরের কায়রোতে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকেই চক্রের এক সদস্য ওই যুবককে একটি বাসায় নিয়ে পাঁচদিন আটকে রাখে। সেখানে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় আরও ৬ হাজার ডলার। নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছিল।

সিআইডি বলছে, এরপর ওই যুবককে কায়রো থেকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত হয়ে নেওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে আরও টাকার জন্য শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে মুক্ত করার কথা বলে দালাল চক্র তার পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেছিল বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

লিবিয়া পুলিশ ওই যুবককে গত ৭ জুলাই দেশে ফেরত পাঠায়। পরে তিনি নিজেই গত সোমবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করলে এর প্রেক্ষিতে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।