শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরানকে সতর্ক করে হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে বলল পাকিস্তান

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 10 সেপ্টেম্বর 2026, 07:52 সকাল • 48 বার পঠিত
ইরানকে সতর্ক করে হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে বলল পাকিস্তান

পাকিস্তান, সৌদি আরবের পক্ষ হয়ে ইরানকে সতর্ক করে মিত্র হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছে। হুতিরা সৌদি আরবে আক্রমণ তীব্র করার পর মক্কা জোটের সদস্য দেশ পাকিস্তান এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

পাকিস্তানি ও সৌদি সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তা থামানোর জন্য এক সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হুতিরা মঙ্গলবার সৌদি আরবের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর খামিস মুশাইতের একটি বিমান ঘাঁটি ও নিকটবর্তী শহরগুলোর তেল অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরবে হওয়া অন্যতম বড় হামলা।

হুতিদের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বুধবার জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ১২ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৫৪ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার ‘জবাব দেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

এই বাড়তে থাকা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে হুমকি তৈরি করা যুদ্ধের দ্বিতীয় আরেকটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন ইরান ‍ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর ঘোষিত বৃহত্তম পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।

ইরানকে পাকিস্তানের সতর্ক করার গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ দেশটি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোটে আবদ্ধ।

ইসলামাবাদের কর্মকর্তরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানের যে কোনো সামরিক ভূমিকা শুধু সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবে হামলা বাড়তে থাকলে তা রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

পাকিস্তানি টেলিভিশনে আসিফ বলেছেন, “এক দেশে আগ্রাসনকে তিন দেশের সবগুলোর ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ নেই। সৌদি আরবে বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন বা (লড়াইয়ের) প্রভাব ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিতভাবে এই চুক্তিকে কার্যকর করে তুলবে।”

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জানানো রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

বছরের পর বছর ধরে সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে মিত্রতায় ভারসাম্য রক্ষার পর পশ্চিম এশিয়ার মঞ্চে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ সৌদি আরবে হুতিদের হামলার গুরুত্ব কতো, তা তুলে ধরেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের কাছে পাঠানো ইসলামাবাদের বার্তা পরিষ্কার: হুতিদের লাগাম টেনে ধরো নয়তো একটি ছায়া যুদ্ধকে বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করার ঝুঁকি নাও।

একজন জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, পাকিস্তান গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কাছে এই বার্তা পাঠিয়ে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বন্ধ করতে তাদের প্রভাব ব্যবহার করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে তেহরানকে ওই বার্তা মঙ্গলবার পাঠিয়েছে পাকিস্তান আর তেহরান উত্তরে বলেছে, “হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না ইরান।”

তবে দুই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরান গত সপ্তাহে হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে বলেছে। তেহরান অতিরিক্ত তহবিল ও অস্ত্রের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব হামলা সমন্বয় করতে সাহায্য করার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার ইয়েমেন সফর করেছিলেন।

ওই আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, সংঘাত বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থায় গেলে রিয়াদ তাদের রক্ষার জন্য পাকিস্তানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য চাপ দিতে পারে তার আগেই হুতিদের থামাতে চায় ইসলামাবাদ।

ওই কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি আছে পাকিস্তানের, কিন্তু আমি আশবাদী পরিস্থিতি ওই পর্যায়ে যাবে না যেখানে পাকিস্তানকে সত্যিই পদক্ষেপ নিতে হবে। আপাতত এটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ অনুরণ করবে।”