শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে জড়াল হুতিরা, হুমকিতে সুয়েজ খাল?

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 28 মার্চ 2026, 04:52 দুপুর • 135 বার পঠিত
ইরান যুদ্ধে জড়াল হুতিরা, হুমকিতে সুয়েজ খাল?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্যে ইয়েমেনের হুতিরাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের প্রায় এক মাসের মাথায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুতিরা; ইরান যুদ্ধে তাদের সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি, হুতিদের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। তারা যদি বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে লোহিত সাগর এবং শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খাল—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই বাধাগ্রস্ত হবে।”

তিনি বলেন, “এগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব হবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।”

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বছর দুয়েক আগে হুতিরা লোহিত সাগরে পশ্চিমা দেশের জাহাজে হামলা চালায়, সেখানে চারটি জাহাজ ডুবেছে।

শতকোটি ডলারের বেশি অস্ত্রশস্ত্র খরচ হয়েছে লোহিত সাগরকে নিরাপদ করতে, তারপরও জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ওই জলপথ এড়িয়ে চলে।

আল জাজিরা লিখেছে, ইসরায়েলে হুতিদের হামলাকে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে দেখতে পারে। কয়েক সপ্তাহ আগে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ বন্ধ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন দেশটির এক কর্মকর্তা। যদিও নির্দিষ্ট করে কোনো পথের কথা বলা হয়নি।

ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানোর পর এখন দৃষ্টি যাচ্ছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দিকে—সম্ভবত বাব আল-মানদেব প্রণালি, যা লোহিত সাগরে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ।

এই নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে চলমান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মধ্যে ইরান ও তার মিত্রদের জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিকে ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।

বর্তমানে এই সরু জলপথের আশেপাশে প্রায় ২,০০০ জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যা ইরানের উত্তর পাশে এবং ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণ পাশের মাঝে অবস্থিত।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক আসন্ন মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে সমুদ্রপথ দিয়ে পার হয়, সেই পথটি যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তখন সুয়েজ খাল নিয়ে সতর্কতা এল কাতারের ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক এলমাসরির তরফে।

তিনি বলেছেন, হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে, যা শক্তিশালী হলেও ‘অভেদ্য নয়’।

এলমাসরি বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে। এখন যদি ইয়েমেন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধেও ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা গড়তে হয়, তাহলে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠবে।”

তবে রাজনৈতিক দিক থেকে ইসরায়েল এ পরিস্থিতিকে স্বাগত জানাতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

“তারা যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় এবং ডনাল্ড ট্রাম্প যেন অদূর ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতার পথ না নেন, সেটিও তারা নিশ্চিত করতে চায়। ইসরায়েলের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি,” বলেন তিনি।