ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও প্রাইজমানি আটকে রাখার অভিযোগ জর্ডানের
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রাইজমানি আটকে রাখা এবং ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলি বিন হুসেইন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই বেশ চাপে রয়েছেন ইনফান্তিনো। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এলো।
ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি প্রিন্স আলি বিন হুসেইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই বিবৃতিতে জানান, গত বছর ফিফা আরব কাপের ফাইনালে ওঠার প্রাইজমানি তারা এখনও পাননি। তিনি বলেন, আরব কাপের প্রাইজমানির জন্য গত ডিসেম্বর থেকে আমাদের খেলোয়াড়রা অপেক্ষায় আছে।
অথচ ফিফা বড়াই করে বেড়ায় তাদের রিজার্ভে কত বিলিয়ন ডলার পড়ে আছে! স্পষ্টতই সমস্যাটা তাদের নেতৃত্বে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিকিট থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের সময় জর্ডানের অনেক সমর্থককে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি ফিফার মাধ্যমে জর্ডানের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি থেকে কর (ট্যাক্স) কেটে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।জর্ডান ফুটবল প্রধান জানান, ইনফান্তিনোর পুনঃনির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে তাদের অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, মাস খানেক ধরে ফিফা আমাদের কোনো বিষয়েই সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এরপর বিশ্বকাপের সময় আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, আমি যদি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করি, তবে তারা আমাদের অ্যাসোসিয়েশনকে সাহায্য করবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা আগে তাকে সমর্থন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। পুরো বিষয়টি ব্ল্যাকমেইল ছাড়া আর কিছুই নয় এবং আমরা এর কাছে কিছুতেই মাথা নত করব না।
২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার দায়িত্ব নেওয়া ইনফান্তিনোর আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদেও সভাপতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টানা সমালোচনার মুখে তার সেই অবস্থান এখন হুমকির মুখে।
এর আগে মঙ্গলবার, ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান ও আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এবং ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমও বাতিল হওয়া ওই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করেছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে উয়েফার সদস্য দেশগুলোর পদক্ষেপে। ওয়েলস, ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং সার্বিয়ার মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জোর গুঞ্জন রয়েছে, ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) খুব শিগগিরই এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।