শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ অপহরণ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে: প্রধান কৌঁসুলি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 আগস্ট 2026, 02:28 দুপুর • 58 বার পঠিত
ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ অপহরণ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে: প্রধান কৌঁসুলি

দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ‘নেতৃত্বে’ দ্বিতীয় চেষ্টায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়ার কথা বলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়।

বিমান বাহিনীর তখনকার স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সে সময় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। আর তখনকার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান ছিলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউল আহসানকে যখন সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তিনি ছিলেন মেজর জেনারেল। সর্বশেষ তিনি ছিলেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) মহাপরিচালক।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’ ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) । পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।”

উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আদেশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চিফ প্রসিকিউটর।