ই-কমার্সে ছলচাতুরির প্রতিযোগিতা
তথ্য-প্রযুক্তির নবউদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা ছড়িয়ে দিয়েছে নিজ দেশ থেকে শুরু করে সারাবিশ্বের মানুষের মাঝে। অনলাইন কেনাকাটার অগ্রপথিক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, এল ইবে, রাকুতেন, আলিবাবার হাত ধরে ই-কমার্স নিজ নিজ দেশে যাত্রা শুরু করলেও এসব প্রতিষ্ঠান এখন এই খাতে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের ব্যবসার বিস্তৃতি গোটা বিশ্বে। ব্যবসা পরিচালনায় সততা, নিষ্ঠা ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বছরের পর বছর টিকে আছে এসব প্রতিষ্ঠান। একই সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশেও। বিগত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীর যানজট, নগরবাসীর ব্যস্ততাসহ নানা কারণেই এই মাধ্যমে ঝুঁকছিলেন মানুষ। আর করোনার আঘাত ই-কমার্সে সম্পৃক্ত করেছে মুদি দোকানী, ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকেও। কিন্তু হঠাৎ করে এই খাতে গজিয়ে উঠা ব্যবসায়ী, প্রতারণার মানসিকতায় সম্পৃক্ত হওয়া, গ্রাহকদের অতিলোভের কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে সম্ভাবনাময় এই খাত। আর এদের অনৈতিক কর্মকান্ড ও প্রতারণার কারণে গ্রাহকদের আস্থা হারাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানগুলো।
গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফার ঘোষণা করে শতাধিক প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। অফার ঘোষণার পর ক্রেতারা হুমড়ী খেয়ে পড়ে করেছেন বিনিয়োগ, আর এসব টাকা কেউ পাচার করেছেন দেশের বাইরে, কেউবা আত্মসাৎ করেছেন নিজেরাই। অন্যদিকে গ্রাহকদের দিনের পর দিন পণ্য না দিয়ে দিয়েছেন আশ্বাস। সম্প্রতি আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির মাধ্যমে এই খাতে প্রতারণার মুখোশ উন্মোচিত হয়। একে একে বের হতে থাকে প্রতারণাকারীদের থলের বেড়াল। প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকরাও মুখ খুলতে থাকে। মামলাও করেন অনেকে। এরপরই গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক, কর্মকর্তাদের।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দায় নেবে না
গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের জন্য সকলের বদনাম হতে পারে না : ইক্যাব