শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর আদর্শ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 03 জুন 2021, 08:26 সকাল • 711 বার পঠিত
হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর আদর্শ

আমাদের প্রিয়নবী (স.)-এর আগমনের মুহূর্তটি ছিল বিশ্বমানবতার জন্য এক অনাবিল ঈদ-মহামুক্তির মহোৎসব। তিনি এলেন, পৃথিবীর সভ্যতাকে বদলে দিলেন। শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনুপম মানব সভ্যতা কায়েম করলেন। ইসলামের চিরন্তনবিধানের আলোকে তিনি আমাদের জন্য রেখে গেলেন এমন এক চিরায়ত আদর্শ, যার সত্যনিষ্ঠ অনুসরণ ও চর্চা সমাধান দিতে পারে আমাদের প্রতিটি সমস্যার।

হাজারো সমস্যার ঘূর্ণীবর্তে নিপতিত এই আধুনিক পৃথিবীর একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো-সামাজিক সন্ত্রাস। সমাজদেহের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আজ। প্রশাসক, সমাজবিজ্ঞানী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিজন সদস্য আজ সন্ত্রাসের এই অভিযান থেকে মুক্তির পথ খঁজছেন ও সমাধান পচ্ছেনা। এই প্রেক্ষাপটে আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শের আলোকে এই সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ-নির্দেশনা নিতে প্রয়াস পাব। আজকে আমাদেরকে গোড়া থেকে চিন্তা করতে হবে যে, নৈতিক অবক্ষয় ও সন্ত্রাস কিভাবে জন্ম নেয় এবং এর বিস্তার ঘটে। এক কথায় সামাজিক ও মূল্যবোধে যখন ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, তখনই আসে বিপর্যয়। আর তাই সন্তানের সাথে মাতা-পিতার সম্পর্ক, ছাত্রের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্ক, ব্যবসায়ীর সাথে তার অংশীদারের সম্পর্ক, বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্ক-তথা সমাজের একজন সদস্যের সাথে আরেকজনের সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই জন্ম নেয় এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা, যার চূড়ান্ত রূপ হয়ে ওঠে সর্বসংহারী সন্ত্রাস। এ প্রসঙ্গে মহানবীর একটি হাদিস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন : নিজের ক্ষতি করতে পারবে না, অপরের ক্ষতিও না। আরেক বাণীতে তিনি বলেন : অপরের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য কর।


মহানবীর জীবনে এ হাদীসের বাস্তবায়ন কীভাবে ঘঠছে তা দেখতে পাই আমরা একটি ঘটনায়। তিনি মসজিদে নববীতে বসে আছেন। এমন সময় এক যুবক এসে বলল : ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ইসলামের সব কিছুই মানতে প্রস্তুত আছি, তবে ব্যভিচার ছাড়তে পারব না।’ উপস্থিত সাহাবীগণ স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। কিন্তু মহানবী (স.) তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য খুবই দরদভরা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন : শোন, তুমি যার সাথে যিনা-ব্যভিচার করবে সে নিশ্চয়ই কারো বোন, কারো বা কারো মা, খালা, ফুফু হবে তাই না? সে উত্তরে বললো, হ্যা। তিনি বললেন, তাহলে এবার বল, তুমি কি রাযী যে তোমার বোনের সাথে কেউ এই কাজটি করুক? সে বলল, অবশ্যই আমি তা সহ্য করব না। এভাবে রাসুলুল্লাহ্ (স.) তাকে তার কয়েক ধরনের মহিলা আত্মীয়ের কথা বললেন। সে প্রতি বারই বললো-তা আমি অবশ্যই সহ্য করব না। এক পর্যায়ে সে বলে উঠল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! এখন আমার মন থেকে এই জঘন্য অপরাধের প্রবণতা দুর হয়ে গেছে।”

এখানে আমরা দেখলাম যে, একটি অপরাধ-মনস্ক ব্যক্তিকে তিনি মানসিকভাবে পরিশুদ্ধ করার জন্য তাকে অপরাধের শিকারের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে নিজেকে ভাবতে দিলেন। নিজের জন্য যা গ্রহণযোগ্য নয় অপরের উপর তা চাপাতে গেলে এক সময় নিজেও এর শিকার হতে হবে। আমরা যদি আমাদের সমাজের পথভ্রষ্ট লোকদের মহানবীর এই প্রক্রিয়ায় মানসিক পরিচর্যা করতে পারি তাহলে আশা করা যায় তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আবার স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসবে। এখানে আমাদের আরেকটি বিষয় চিন্তা করতে হবে যে, একটি যুবক তার যৌবন উদ্দাম শক্তিকে কেন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না। সে তো নিষ্পাপ অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। মাতা-পিতার নিয়ন্ত্রণ পারিবারিক পরিমন্ডলে। সে বেড়ে উঠেছে অনেক বছর। মাতাপিতার কি কিছু দায় দায়িত্ব নেই?

মহানবী (স.) বলেন, ‘‘প্রতিটি নবজাতক স্বভাবধর্মেই জন্ম লাভ করে। তারপর তার বাপ-মা তাকে ইয়াহুদী বানায়, নাসারা বানায় বা অগ্নিপূজক বানায়।” এজন্যই দেখা যায়, যুব-মানসে যে সন্ত্রাসী মনোভাবের জন্ম নেয়, তা পরিবারে উপযুক্ত অভিভাবকত্ব, যতœ ও শিক্ষার অভাবেই হয়ে থাকে। মা-বাবার পরস্পরের ভুল বোঝাবুঝির প্রভাব পড়ে কোমলমতি সন্তানের মনসিকতায়। আবার পারিবারিক বন্ধনে ভারসাম্যহীনতা থেকে এক ধরনের অস্বাভাবিকতা জন্ম লাভ করে। পারিবারিক ও সামাজিক অধিকারে বঞ্চনা পেতেও এক সময় যুব-মানস বিগড়ে যায়। যেখানে ক্ষত সেখানেই মলম লাগাতে হয়। তবে কথা আছে-চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযবহ পঁৎব.


এজন্যই মহানবী (স.) বলেছেন : ‘‘তোমাদের সন্তানদের সাথে সম্মানবোধের মাধ্যমে আচরণ কর এবং তাদেরকে আদব মূল্যবোধ শেখাও।” মহানবী (স.) শিশুদের সাথে এমন ভাবে আচরণ করতেন যাতে তদের মনে কোন বঞ্চনা বা হতাশার সৃষ্টি না হয়। তিনি একবার প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হোসেন (রাঃ)-কে চুমা দিলেন। পাশেই ছিল পালিত পুত্র যায়দ-এর শিশু পুত্র উসামা, তাকেও চুমা দিয়ে সমতা বিধান করলেন। এ সবই আমাদের শিক্ষণীয়। সন্ত্রাসের অঙ্কুর যেন গজাতে না পারে, সে জন্য মাতা পিতাকে সদা সতর্ক থাকতে হয়। উঠতি বয়সে সমাজের নানা ধরনের চরিত্রের মানুষের সাথে পরিচয় ঘটে। তখন অভিভাবকদের উচিত তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। কোন সমাজ গঠনমূলক কাজে উৎসাহিত করা। কারণ যৌবনের স্বাভাবিক আবেদন অনুযায়ী যুবকরা কিছু করতে চায়। ভাল কাজে নিয়োজিত না হতে পারলে খারাপের দিকে চলে যায়।

মহানবী (স.) তাঁর যৌবনের প্রারম্ভে ‘‘হিলফুল ফুযুল” নামক একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন। আমাদের যুব সমাজকে যদি আমরা এ ধরনের সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত করতে পারি, তাহলে তারা অন্তত ঃ নিজেরা তো ভাল থাকবেই, আত্ম-কর্মসংস্থান মূলক সংগঠনে জড়িত থাকলে বেকারত্ব দুর হওয়ার সাথে সাথে তারা নিজের ও দেশের ভাগ্য গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবে। যুব সমাজ বিপথগামী হয় প্রধান ঃ সঙ্গদোষে। মহানবী (স.) বলেন ঃ “মানুষ তার সহচরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। কাজেই তোমাদের কেউ বন্ধুত্ব করার সময় ভাল করে দেখে শুনেবন্ধুত্ব করবে।” (মুসনাদে আহমদ)---

অপর হাদীসে তিনি বলেন, ‘সৎসঙ্গী ও অসৎসঙ্গীর দৃষ্টান্ত হচ্ছে সুগন্ধি বহনকারী ও লোহার হাপর চালনাকারীর মতো। সুগন্ধির বাহক হয় তোমাকে কিছু দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করবে অথবা অন্তত তার সুঘ্রাণ তো পাবে। পক্ষান্তরে, হাপর চালানেওয়ালা হয় তোমার পোশাক পুড়িয়ে দেবে অথবা কমপক্ষে তুমি দুর্গন্ধ তো পাবে।” (বুখারী মুসলিম)

সমাজে সন্ত্রাসী হিসাবে যারা কুখ্যাত, তাদের এ কাজে হাতেখড়ি হয়েছে কোন বিপথগা