হজযাত্রীদের জন্য ‘নুসুক কার্ড’ কেন বাধ্যতামূলক?
পবিত্র হজের বিশাল কর্মযজ্ঞকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় জোর দিচ্ছে সৌদি আরব সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজযাত্রীদের জন্য ‘নুসুক কার্ড’ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কার্ড ছাড়া কোনো ব্যক্তি হজের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নুসুক কার্ড আসলে কী?
নুসুক কার্ড হলো সৌদি সরকার অনুমোদিত একটি স্মার্ট পরিচয়পত্র। এটি একই সঙ্গে মুদ্রিত (ফিজিক্যাল) এবং ডিজিটাল—উভয় রূপেই থাকে। এই কার্ডে হজযাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, ছবি, আবাসন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। মূলত এটি একজন হজযাত্রীর সৌদি আরবে অবস্থানের আইনি বৈধতার প্রধান প্রমাণপত্র।
কেন এটি অপরিহার্য?
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজের পবিত্র স্থানগুলো অর্থাৎ মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় প্রবেশের জন্য নুসুক কার্ড প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা: কেবল নিবন্ধিত ও বৈধ হজযাত্রীরাই যেন হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করে এই কার্ড।
দ্রুত সেবা: কার্ডে থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে কর্তৃপক্ষ মুহূর্তেই হজযাত্রীর পরিচয় ও স্বাস্থ্য তথ্য জানতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা সেবায় অত্যন্ত কার্যকর।
আবাসন ও দিকনির্দেশনা: মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনের তথ্য এতে থাকায় কেউ পথ হারিয়ে ফেললে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারেন।
পরিবহন সুবিধা: হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বাস বা ট্রেন সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই কার্ডটি পাসের মতো কাজ করে।
ডিজিটাল নুসুক কার্ডের সুবিধা
কাগজে মুদ্রিত কার্ডের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ডিজিটাল কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হজযাত্রীরা তাদের স্মার্টফোনে 'Nusuk' অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপে কার্ড ছাড়াও নামাজের সময়সূচি, পবিত্র কোরআন, ওমরাহ ও রওদা জিয়ারতের পারমিট এবং মক্কা-মদিনা ভ্রমণের নানা নির্দেশনা পাওয়া যায়।
কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়
সতর্ক থাকার পরেও যদি কোনো হজযাত্রী তার ফিজিক্যাল কার্ডটি হারিয়ে ফেলেন, তবে বিচলিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
১. অবিলম্বে নিজের কাফেলা বা গ্রুপ লিডারকে বিষয়টি অবহিত করে নতুন কার্ডের আবেদন করা।
২. স্মার্টফোনে থাকা ডিজিটাল কার্ডটি (অ্যাপের মাধ্যমে) বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা।
৩. প্রয়োজনে সৌদি আরবের ইউনিফাইড কল সেন্টার '১৯৬৬' নম্বরে যোগাযোগ করা বা নিকটস্থ 'নুসুক কেয়ার সেন্টার'-এর সহায়তা নেওয়া।
হজযাত্রীদের মনে রাখতে হবে, নুসুক কার্ড কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড নয়, বরং এটি পুরো হজ সফরকে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত রাখার চাবিকাঠি। তাই সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকে দেশত্যাগ পর্যন্ত এটি সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখা জরুরি।