হাসিমুখের ছবিটি এখন কেবলই স্মৃতি
ভ্রমণের আগে দলবেঁধে তুলেছিলেন একটি গ্রুপ ছবি। হাসি খুশি দেখা গেছে সবাইকে। কিন্তু কে জানতো এটিই হবে শেষ হাসি! আর কখনও তোলা হবে না হাস্যোজ্জ্বল গ্রুপ ছবি!
এমনই ঘটেছে তাদের সবার ভাগ্যে। তোলার মাত্র কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে ছবিটি হয়ে গেছে স্মৃতি। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের বহনকারী গাড়ির চালকসহ ১১ জন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৬ জন।
গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মীরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া রেলস্টেশন এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা।
এরা সবাই হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার আরঅ্যান্ডজে প্রাইভেট কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে ছাত্র-শিক্ষকসহ ১৭ জন মিলে গিয়েছিলেন খৈয়াছড়া ঝরণা দেখতে। সেখান থেকে ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক সজীব, ওয়াহিদুল আলম জিসান, মোস্তফা মাসুদ রাকিব ও রেদোয়ান চৌধুরী এবং শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান, মোসহাব আহমেদ হিশাম, সাগর, ইকবাল হোসেন মারুফ, তাসমির হাসান ও সাজ্জাদ। এছাড়াও নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা নিরু।
আহত হয়েছেন - মাইক্রোবাসের হেলপার তৌকিদ ইবনে শাওন, শিক্ষার্থী মো. মাহিম, তানভীর হাসান হৃদয়, মো. ইমন, তছমির পাবেল ও মো. সৈকত।
এদিকে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী মহানগর আপ যাচ্ছিল। একই সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতীও মীরসরাই বড়তাকিয়া এলাকায় একইস্থান পারাপার হচ্ছিল। মহানগর আপ ট্রেনটি যাওয়ার আগে ক্রসিংয়ের গেটে থাকা বাঁশ নামিয়েছিলেন লাইনম্যান। এ সময় মহানগর আপ বড়তাকিয়া ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাসটি বাঁশ উঠিয়ে লাইনে উঠে পড়ে। চট্টগ্রামমুখী ট্রেনটি আসার আগেই চলে যেতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু লাইনে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাতী ট্রেনটি চলে আসে এবং মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়।
তবে জানা যায় ঘটনার সময় গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন। তিনি বারবার লাল পতাকা উচিয়ে লাইনে উঠতে বারণ করলেও মাইক্রোচালক শোনেননি। তার অবহেলার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি বিষয় তদন্তে জানা যাবে।