শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

হাজীরা আজ আরাফার ময়দানে

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 30 জুলাই 2020, 02:22 দুপুর • 715 বার পঠিত
হাজীরা আজ আরাফার ময়দানে

করোনার কারণে এবার সীমিত করা হয়েছে হজের অংশগ্রহণ। অতি কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে কাবা শরিফ তাওয়াফ করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওনা হন হাজীরা। মক্কা হতে মিনা পর্যন্ত যেখানে প্রতি বছর ২৫ লক্ষাধিক মুসলিমের পদচারণা থাকত, এবার যাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার মুসল্লি।

আজ ফজরের নামাজ শেষে তারা মিনা থেকে যাচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে। সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকবেন তারা। সেখানে অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। 

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরাফাতের ময়দানে হাজীদের অবস্থানের দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। খুতবা বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনূদিত হবে। খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে।

শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ৭০টি পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজীরা মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে  গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় পরবেন।

এরপর মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন। আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

আরব নিউজ ও আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজন না হলেও প্রতিদিন ১০ বার কাবাঘর ও আশপাশের স্থানগুলো ধোয়া হচ্ছে । ১৮ হাজারেরও বেশি কর্মী এসব কাজে নিয়োজিত। হজের জন্য নির্দিষ্ট অন্য শহরগুলোর পরিছন্নতার জন্যও রয়েছেন ১৩ হাজার কর্মী। এদিকে জমজমের পানি বোতলে করে সরবরাহ করা হবে হাজীদের। করোনার কারণে কাবাঘর ছুতে দেওয়া হচ্ছে না। কালো পাথরে চুমু খাওয়াও এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নামাজ পড়ার জন্য আনতে হবে নিজস্ব জায়নামাজ। এবার বিশ্বের কোনো দেশ থেকেই কেউ হজে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে সৌদিতে অবস্থানরত হাতেগোনা কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি এ বিরল সুযোগ পেয়েছেন। এবার হজে অংশ নেয়া মুসল্লির ৭০ ভাগ প্রবাসী; বাকি ৩০ শতাংশ দেশটির নাগরিক।