শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

গুনাহতে লিপ্ত থাকার ক্ষতিকর দিকগুলো

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 04 জুন 2021, 09:45 সকাল • 1,016 বার পঠিত
গুনাহতে লিপ্ত থাকার ক্ষতিকর দিকগুলো

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম রহি’মাহুল্লাহ তাঁর লিখা ‘রোগ ও চিকিৎসা’ এবং ‘আল-ফাওয়ায়েদ’ নামক গ্রন্থে গুনাহর অনেক ক্ষতিকর দিকের কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে রয়েছেঃ
.
(১) ই’লম (দ্বীনের জ্ঞান) থেকে বঞ্চিত হওয়া।
(২) অন্তরে একাকীত্ব অনুভব করা।
(৩) কাজকর্ম কঠিন হয়ে যাওয়া।
(৪) শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
(৫) আল্লাহর আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হওয়া।
(৬) বরকত কমে যাওয়া।
(৭) কাজ-কর্মে সমন্বয় না হওয়া।
(৮) গুনাহর কাজে অভ্যস্থ হয়ে পড়া।
(৯) আল্লাহর তাআ’লার ব্যাপারে পাপীর অনাসক্তি সৃষ্টি হয়।
(১০) লোকজন তাকে অশ্রদ্ধা করে।
(১১) জীবজন্তু তাকে অভিশাপ দেয়।
(১২) সে সর্বদা অপমানিত হতে থাকে।
(১৩) অন্তরে মোহর পড়ে যায়।
(১৪) লানত (অভিশাপের) মাঝে পড়ে।
(১৫) দুয়া কবুল হয় না।
(১৬) জলে ও স্থলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
(১৭) আত্মমর্যাদা বোধ কমে যায়।
(১৮) লজ্জা চলে যায়।
(১৯) নিয়ামত দূর হয়ে যায়।
(২০) আজাব নেমে আসে।
(২১) পাপীর অন্তরে সর্বদা ভয় নেমে আসে।
(২২) সে শয়তানের দোসরে পরিণত হয়।
(২৩) তার জীবন সমাপ্ত হয় মন্দের উপর। এবং সর্বশেষ,
(২৪) পরকালীন আজাবে নিপতিত হয়।
______________________________________
.
◾গুনাহ ত্যাগ করার উপকারীতা
_______________________________
(১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে, যে তার অন্তরের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।” সিলসিলাহ সহী’হাহঃ ১৪৮১।
(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “হিজরত হচ্ছে তোমার মন্দ কাজ বর্জন করা।” মুসনাদে আহমাদঃ ১৭০২৭।
(৩) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “সর্বোত্তম মুহাজির হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু বর্জন করে চলে।” সিলসিলা সহী’হাহঃ ১৪৯১।
(৪) ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “গুনাহ বা পাপকাজ ত্যাগ করার উপকারীতা হচ্ছেঃ
(১) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
(২) মানুষের অন্তরে মর্যাদা লাভ হয়।
(৩) পূর্বে লোকেরা ক্ষতি করে থাকলে লোকদের কাছ থেকে সাহায্য এবং নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
(৪) লোকেরা যদি গীবত করে থাকে, তাহলে তার সম্মান রক্ষা পায়।
(৫) আল্লাহ তার দুয়া কবুল করেন।
(৬) আল্লাহ তাআ’লার নৈকট্য অর্জিত হয়।
(৭) ফেরেশতাদের নৈকট্য পাওয়া যায়।
(৮) মানুষ ও জিনদের মধ্য থেকে যারা শয়তান তারা দূরে সরে যায়।
(৯) লোকেরা তাকে সাহায্য করার জন্য, তার চাহিদা পূরণ করার জন্যে এবং তার সাহচর্য ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীতা করবে।
(১০) সে মৃত্যুকে ভয় করবেনা, বরং আল্লাহ তাআ’লার সাথে সাক্ষাত লাভের জন্য ও তাঁর কাছ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার জন্যে আগ্রহী হবে।
(১১) এই দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হবে এবং পরকালকে সে অনেক মূল্যবান মনে করবে।
(১২) পরকালে অনেক বড় রাজত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করবে।
(১৩) আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ফিরে পাবে। (১৪) ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে।
(১৫) আল্লাহর মহান আরশ বহনকারী ফেরেশতা ও আরশের চারপাশে আল্লাহর প্রশংসাকারী ফেরেশতাদের দুয়া লাভ করবে।
(১৬) কেরামান কাতেবীন ফেরেশতাদ্বয় তার উপরে খুশি থাকবে এবং তারা জন্য দুয়া করবে।
(১৭) জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধি পাবে।
(১৮) আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে। (১৯) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত কামনা করবে।
(২০) তোওবা করে পবিত্র জীবন-যাপনের উপরে সন্তুষ্ট থাকবে।
(২১) আল্লাহ তাকে এমন সুখ ও শান্তি দান করবেন, যা সে যখন পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো তা থেকে বঞ্চিত ছিলো।
উৎসঃ আল-ফাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা-২৫৫।