শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

গোর-এ-শহীদে প্রায় ৬ লাখ মানুষের ঈদের জামাত

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 03 মে 2022, 04:00 দুপুর • 229 বার পঠিত
গোর-এ-শহীদে প্রায় ৬ লাখ মানুষের ঈদের জামাত

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ আয়তনে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান। আজ মঙ্গলবার সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ পড়েছেন। সেই হিসেবে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হয়ে গেল গোর-এ-শহীদে। 

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অন্য সব জায়গার মতো এই ঈদগাহেও গত দুই বছর ঈদের জামাত বন্ধ ছিল। এবার ঈদের নামাজ পড়তে পেরে মুসল্লিদের আনন্দ ছিল তাই বেশি। জামাতের পর কোলাকুলি আর হাত মেলানোয় ব্যস্ত ছিলেন সকলে। 

আজ সকাল ৯টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন দিনাজপুর
সদর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শামসুল হক কাসেমী। জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার লাখো মানুষের সঙ্গে এবার আশেপাশের অনেক জেলার মানুষ এখানে ঈদের নামাজ পড়তে এসেছিলেন। এত বড় জামাতে নামাজ পড়তে পেরে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও জয়পুরহাটের মানুষ এসেছেন। দেশের আরো অনেক জায়গা থেকে এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। তারা আসেন মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটোবাইক, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে নিরাপদে যানবাহন রাখার ব্যবস্থাও ছিল। 

নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে যাতে বিশাল এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে তাই ঈদগাহ মাঠে ছিল কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল।  শহরে প্রবেশের সব পথে চেকপোষ্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় হতে গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে স্থায়ী কোন মিম্বার সেখানে নির্মাণ করা হয়নি। জেলা প্রশাসন স্থায়ী ঈদগাহ মিম্বার নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলো ২০১৫ সালে। ঈদগাহটির পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেছেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সর্বৃহত্তম ইদ-উল-ফিতরের জামাত এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

এই ঈদগাহে ৭ লাখ মানুষ একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে পারেন। ২০১৭ সালে গোর-ই শহীদ ময়দানে ঈদের প্রথম জামাতে প্রায় চার লাখ লোকের সমাগম হয়। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন দেড়লাখ থেকে দুই লাখ। তবে এখন মাঠের বাইরে রাস্তাঘাটে, বাড়িঘরের উঠানেও জামাত হয়। তাতে তিন লাখ পর্যন্ত লোক সমাগম হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহের আয়তন সাত একর। অন্যদিকে দিনাজপুর গোর-ই শহীদ বড় ময়দানের আয়তন ২২ একর, তিনগুণেরও বেশি। সে হিসাবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ।

ঈদগাহটি তৈরি করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতিতে। মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট এই ঈদগাহে রয়েছে দুটি মিনার, যাদের প্রতিটির উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝের গেট দুটি ৪৭ ফুট করে চওড়া। এতে খিলান আছে ৩২টি। ঈদগাহ তৈরিতে রড, সিমেন্ট, বালু ছাড়াও সিরামিক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক সংযোগ। সন্ধ্যার পর থেকেই মিনারে নান্দনিক আলো জ্বালানো হয়। ঈদগাহ মাঠের দুধারে করা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। ইসলামী ভাবগাম্ভীর্যে ইরাক, কুয়েত, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে এর আকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই ঈদগাহ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।