গণকমিশন দুদকে আলেমদের তালিকা দিয়ে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে: হেফাজত আমির
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেশবরেণ্য আলেম–ওলামা ও ইসলামী আলোচকদের তালিকা জমা দিয়ে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তথাকথিত ‘গণকমিশন’। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী একথা বলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর নামে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গি অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে কাজ করছেন এমন অভিযোগ এনে সম্প্রতি ১১৬ ওয়ায়েজিনের (ধর্মীয় বক্তা) একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে ‘গণকমিশন’। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
হেফাজতের মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত তথাকথিত গণকমিশনের করা অভিযোগ সম্পর্কে আমরা আজ জানতে পেরেছি। এ সংগঠনের শ্বেতপত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। এটি দেশবাসীর সামনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নানাভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করে আসছে। সর্বশেষ তারা দেশবরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ এবং ইসলামী আলোচকদের তালিকা প্রকাশ করে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী জানান, ‘দেশবরেণ্য ইসলামী আলোচকদের নামে অমূলক এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করে তথাকথিত গণকমিশনের দায়িত্বশীলরা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। বাস্তবতা বিবর্জিত এসব কথাবার্তা বলে নিজেদেরকে জাতির সামনে চরম উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছেন। এসব বানোয়াট বক্তব্যের কারণে দেশে চরম অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যারা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড করছে, সরকার যেন তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে।’
হেফাজতের আমির বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিল শান্তি-সমৃদ্ধি ও আদর্শ সমাজ গঠন ও সমাজ সংস্কারের উত্তম একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশ করা হয়। সমাজের সব অনাচার, অন্যায় এবং ভুল থেকে মানুষকে বিরত রাখা হয়। ইসলামী আলোচকরা ধর্মের বিশুদ্ধ বার্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।’
মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘দেশ ও জাতির জন্য পরম কল্যাণকর এ কাজটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তথাকথিত গণকমিশন। দুদকে এ মিথ্যা অভিযোগ করে তারা দেশ-জাতি, সমাজ ও ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তারা আজ আলেম উলামাদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চক্রান্ত করছে। সরকার যদি এখনই শক্ত হাতে এ সংগঠনকে দমন না করে তাহলে ইসলামপ্রিয় আপামর তৌহিদী জনতা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’