শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

`গণ-অভ্যুত্থান নয়, বড় চক্রান্ত-আওয়ামী লীগের অপপ্রচার`

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 08 ফেব্রুয়ারি 2025, 04:15 দুপুর • 251 বার পঠিত
`গণ-অভ্যুত্থান নয়, বড় চক্রান্ত-আওয়ামী লীগের অপপ্রচার`

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্রোহের গ্রাফিতি: ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জঙ্গি নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করছে, যার সঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমও জড়িত। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানকে ‘চক্রান্ত’ হিসেবে দেখাতে প্রচার চালাচ্ছে।

শফিকুল আলম বলেন,"এটা খুবই পরিকল্পিত অপপ্রচার। এর সঙ্গে ভারতীয় মিডিয়াও জড়িত। হাসিনার অলিগার্কেরা মিলিয়ন ডলার খরচ করছে।’’ তিনি আরও বলেন, তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশে যা হয়েছে তা আসলে গণ-অভ্যুত্থান নয়। এটা বড় রকমের চক্রান্ত।

শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ইতিহাস বদলের চেষ্টা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণা করা হয়নি, রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত ৩০ হাজার মানুষের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে, এবং জনগণের দুর্ভোগ লুকানো হয়েছে। তিনি বলেন, আফতাব আহমেদ বাসন্তীর ছবি তুলেছিলেন, অথচ তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হয়নি।

নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, তাঁর ভাইকে রেশনের দোকানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, আর তাঁদের বাসায় মানুষ ভাতের মাড় নিতে আসত। অথচ আওয়ামী লীগ প্রচার করেছে যে শেখ মুজিবের শাসনকাল ছিল ‘মহৎ’।

তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছেন, এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সহিংসতা নিয়েও তিনি কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, অধ্যাপক ইউনূস জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে ১৫ বছরের নির্যাতনের সত্য উন্মোচনের জন্য গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনামলের ভয়াবহতা তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের ২১ দিনের ঘটনা নয়, বরং ১৫ বছরের সংগ্রামের ফল। ভবিষ্যতে এই স্বৈরাচারী শক্তি যেন ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী ও সৈয়দ আবদাল আহমেদ-সহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।