শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

গামছা পার্টির দৌরাত্মে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রাতের ঢাকা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 05 জুন 2021, 08:13 রাত • 622 বার পঠিত
গামছা পার্টির দৌরাত্মে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রাতের ঢাকা

গামছা পার্টির দৌরাত্মে রাতের ঢাকা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। রাজধানীর সর্বত্র গভীররাতে এদের তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গামছা পার্টির বিষয়ে বিস্তারিত জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার। 

জানা গেছে, রাতে যাত্রীবাহী পরিবহন না পেয়ে যারা বেকায়দায় পড়ে যান, তারাই এ গামছা পার্টির টার্গেট। বেকায়দায় পড়াদের সহায়তার নামে এগিয়ে আসেন একশ্রেণির সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। আর তারাই মূলত গামছা পার্টির সদস্য। সিএনজিতে উঠা যাত্রীদের তুলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় এ অপরাধ চক্রের সদস্যরা। ওই সময়ে বাধা দিলেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, গত দেড় বছরে গামছা পার্টির খপ্পরে অন্তত ১৬ জনের প্রাণ গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও। বিভিন্ন সময়ে গামছা পার্টির ৬ সদস্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও এ ভয়ংকর পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এ অপরাধ চক্র প্রতিরাতেই বেপরোয়াভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মে পর্যন্ত এ দেড় বছরে গামছা পার্টির হাতে প্রাণ গেছে ১৬ জনের। সবশেষ ৬ মে রাজধানীর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারের ওপর থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় এ হত্যাকাণ্ড  গামছা পার্টিই ঘটিয়েছে।

গত ১৭ মে রাতে খিলক্ষেত এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ছিনতাইকালে একটি চক্রের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে পুলিশের। দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয় এবং আরো দুজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

গ্রেফতার দুজন স্বীকার করেছে, কীভাবে তারা মানুষের কাছ থেকে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। গভীর রাতে এ চক্রটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয় যাত্রীর সন্ধানে। আগেই গাড়িতে থাকে চক্রের দুজন। যাত্রী হিসেবে তুলে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরা হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় সব। বাধা দিলেই শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয়া হয় ফ্লাইওভারের নির্জন কোন স্থানে।

গামছা পেঁচানো অবস্থায় এখন পর্যন্ত যতগুলো লাশ পাওয়া গেছে তার সবই রাজধানীর ফ্লাইওভারে। কারণ ফ্লাইওভারগুলোতে নেই কোন সড়ক বাতি, নেই সিসি ক্যামেরা। পুলিশ বলছে, খুব দ্রুতই পুরো রাজধানী সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।