শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি এমএসসিতে দুর্দান্ত ড. সাইফুল

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 29 এপ্রিল 2026, 06:01 বিকাল • 195 বার পঠিত
ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি এমএসসিতে দুর্দান্ত ড. সাইফুল

২০২০ সালের মার্চে ড. মো: সাইফুল ইসলাম স্যামসাংয়ে থাকা অবস্থায় মালয়েশিয়ায় পিএইচডি শুরু করেন। স্যামসাংয়ের অনুমতি নিয়েই তা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত পিএইচডি শেষ করার জন্য ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে স্যামসাং থেকে পদত্যাগ করেন ড. সাইফুল। 

পিএইচডির ভাবনাটা কিভাবে এল সাইফুলের মধ্যে?

২০০৫ সালে তিনি যখন ডেটাসফটে চাকরি করেন তখন সেখানকার সিনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা খরগপুর আইআইটি ইন্ডিয়া ভিজিট করেন। ওখান থেকে তারা যখন ফিরলেন তখন সাইফুল তাদের কাছে জানতে চাইলেন ওখান থেকে কি শিখে এলেন এবং কি দেখলেন? সুমি  আপা নামের একজন সিনিয়র কলিগ জানালেন, ওখানে যারা প্রফেসর তাদের অধিকাংশ ইন্ডাস্ট্রিতে ১০ থেকে ২০ বছর চাকরি করে তারপর ফ্যাকাল্টিতে যোগ দিয়েছেন। 

এটা জেনে মনে মনে সাইফুল পণ করেন, একসময় তিনিও পিএইচডি করে তার অভিজ্ঞতা ফ্যাকাল্টিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন। ওটাই ছিল পিএইচডির জন্য তার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা। 

২০১২ সালে এআইইউবি থেকে মাস্টার্স শেষ করেন সাইফুল। সেখান থেকে তার তিনটা পাবলিকেশন্স বের হয়। এই মাস্টার্সটাও করা চাকরি জীবনে। তার একজন শুভাকাঙ্খী তাকে বলেছিলেন, আসো মাস্টার্স শেষ করি তাহলে ইউএনডিপিসহ বড় বড় জায়গায় ভালো চাকরির সুযোগ আসবে। তার সাথেই আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স শুরু করেন। সেটা ২০০৯ সালের মার্চের কথা। 

ছেলেবেলায় প্রাইমারি স্কুলে প্রথম হওয়া থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সাইফুলের রেজাল্ট ভালো। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর এমএসসি করেন তিনি। ২০১২ সালে তিনি যখন হজ্জের সফরে তখন তার রেজাল্ট দেয়। সেই সময়ে অনেক খুঁজে মিষ্টির দোকান বের করে হাজিদের তা খাইয়েছিলেন সাইফুল। ফুলটাইম জব করেও মাস্টার্স করলেও তার রেজাল্ট ছিল ভালো।

শিক্ষকরা তাকে খুব পছন্দ করতেন। কারণ, শিক্ষকরা যা বলতেন তাতে ইন্ডাস্ট্রিতে থাকায় যে কারো চেয়ে বেশি ফিডব্যাক দিতে পারতেন সাইফুল। 

একবার কাজের সূত্রে ভারতে ২ মাস থাকায় ওই সময়ে ক্লাস করতে পারেননি। তাতে করে সাইফুলের অ্যাটেনডেন্স ৫০ শতাংশেরও কম ছিল। একজন শিক্ষক বললেন, তিনি তাকে একটা প্রজেক্ট দেবেন। সেটি যদি সাইফুল ঠিক মতো করতে পারেন তাহলে তাকে ফুল মার্কস দেবেন। ১০০ তে ১০০। সেটা ছিল টিম ওয়ার্ক। পুরো ব্যাচকে নিয়ে তিনি তা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেন। শিক্ষক কথা রেখেছিলেন। সাইফুলকে ১০০ তে ১০০ ই দিয়েছিলেন। ওটা থেকেই তার তার তিনটি পাবলিকেশন্স প্রকাশ হয়।

২০১৪ সালে তিনি যখন মালয়েশিয়াতে প্রেজেন্টেশেন দিতে গিয়েছেন তখন তার মাস্টার্সের থিসিস সুপারভাইজার সেই দেশে পিএইচডি শুরু করেছেন। তখন তিনি ও তার সুপারভাইজার তাকেও পিএইচডি শুরু করতে উৎসাহিত করলেন।  ওই সময় ফুলটাইম জব, পরিবার ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি পিএইচডি শুরু করার কাজটি স্থগিত রাখেন।