শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ফের শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 07 ফেব্রুয়ারি 2025, 06:30 বিকাল • 236 বার পঠিত
ফের শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান

পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্র এনে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এবং সেগুলো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে তাদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের অ্যারেস্ট করার ব্যাপারে আগামীকালকের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই।” 

এসময় উপস্থিত জনতা অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানালে তিনি বলেন, “গণ অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে অস্ত্র লুট হয়েছে। সেসময় পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সে কারণে ক্ষোভবশত পুলিশের সঙ্গে অনেক জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। এই সুযোগে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অস্ত্র লুট করেছে এবং আওয়ামী লীগের সময় ১৬ বছরে যাদেরকে রা্জনৈতিকভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকেই অস্ত্র জমা দেয়নি।”
 
তিনি বলেন, “লাইসেন্স দেওয়া অস্ত্র বেশিরভাগই পুলিশ জমা নিয়েছে, কিন্তু লুট হওয়া অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যেগুলো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র বাংলাদেশে ঢোকানোর ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, এই বিষয়টা আমরা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

অস্ত্র উদ্ধারে টাস্কফোর্সের অভিযান পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “পুনরায় সম্মিলিত যৌথবাহিনীর অভিযান আবার পরিচালনা এবং যে অস্ত্রগুলো বাইরে আছে সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করার জন্য আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেব। এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যদি এই দেশের জনগণের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে তাদেরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং আগামীকাল থেকেই জনগণ এর ফল দেখতে পাবে।”

ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, উস্কানিমূলক মিছিল বের করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দুই-তিন দিনের মধ্যেই মূল সংগঠকদের আটক করা হবে।

একজন নাগরিক থানাগুলোতে ঘুষ ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ করলে উপদেষ্টা বলেন, "ঘুষের সমস্যা নতুন কিছু নয়, এটি ৫৩ বছরের পুরনো সমস্যা। তবে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশকে দলীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হবে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা হবে।”

তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান, কোথাও অস্ত্র বা অপরাধীদের উপস্থিতির তথ্য পেলে তা সরকারকে জানাতে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।