এনসিপির অনুষ্ঠানের জন্য বাস রিকুইজিশন: ব্যাখ্যা দিলেন প্রেস সচিব
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন পাঁচটি বাস রিকুইজিশন করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি আজ শনিবার (১ মার্চ) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, পিরোজপুর জেলা প্রশাসন বাস রিকুইজিশনে সহায়তা করেছে, তবে এর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, নাগরিক কমিটি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে জেলা প্রশাসক বাস রিকুইজিশনে সহায়তা করেছে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে কোনো খরচ দেওয়া হয়নি এবং এসব বাসের যাতায়াতের খরচও ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি।
প্রেস সচিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠা গুঞ্জনের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এই রিকুইজিশনে সহায়তা করেছে, এছাড়াও সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকার বাস রিকুইজিশন করতে সহায়তা করেছে। তিনি দ্ব্যর্থকণ্ঠে বলেন, "এখানে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।"
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড(সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করছে, যাতে সব দলই একটি সুন্দর, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।"
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির রোডম্যাপের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেস সচিব বলেন, "নির্বাচনের রোডম্যাপ কিন্তু দেওয়া হয়েছে। বিএনপি হয়তো সুনির্দিষ্ট তারিখ চাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বলেছে যে যদি রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে একটু কম সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। আর যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আরও কিছু সংস্কার হোক, সে ক্ষেত্রে এটি আরও তিন মাস দেরি হতে পারে।"
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখার বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, “গত রমজানের চেয়ে এবার বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এসেছে, কমেছে। পুরো রমজানে অন্তর্বর্তী সরকারের ফোকাস থাকবে এই দাম কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। এ জন্য কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ট্যারিফ কমিশন। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে অনেক পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। তেলসহ কিছু পণ্যের সরবরাহ যাতে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”