শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

এনসিপি কেন ‘ডিফিকাল্টির’ মধ্যে আছে?

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 29 জুলাই 2025, 07:27 বিকাল • 333 বার পঠিত
এনসিপি কেন ‘ডিফিকাল্টির’ মধ্যে আছে?

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর নেতা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন, "আমরা অনেক ডিফিকাল্টির মধ্যে আছি।" কিন্তু এই সংকটের প্রকৃত উৎস কী—তা খুঁজে বের করাটাই এখন দলের জন্য জরুরি।

ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির অবস্থান কী? তারা কি এখনো 'জুলাই আন্দোলন'কে এগিয়ে নিতে চায়, নাকি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করছে? গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় পাঁচজনের প্রাণহানি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ইঙ্গিত দেয়, এনসিপি আন্দোলনের ম্যান্ডেট পেরিয়ে গেছে।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘটনার জন্য এনসিপির রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন। অপরদিকে, এনসিপি বলছে, সামনে আরও বড় লড়াই আসছে—কিন্তু কী সেই লড়াই, সেটি স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনী মাঠে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। জামায়াতও মনোনয়ন প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন বিএনপির শঙ্কা—এই গোলযোগের কারণে নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে না যায়।

জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে। তখন শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং ‘হাসিনা খেদাও’ স্লোগানে রূপান্তরিত হয়। তবে সেই আন্দোলনের ম্যান্ডেট ছিল—ফ্যাসিবাদ হটিয়ে নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু কিছু নেতা নিজেদের মতো করে এজেন্ডা তৈরি করে ম্যান্ডেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছেন। কেউ চাইছেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা, কেউ মুজিববাদ নির্মূল করতে মাঠে নামছেন, আবার কেউ তুলনা করছেন ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গে।

এনসিপি যে ভুলটি করছে, তা হলো—একাত্তরের স্বাধীনতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার মতো কাজ হয়েছে আন্দোলনের নামে, যা দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এমনকি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রগতিশীল নেতারাও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

এনসিপির আরও একটি কৌশলগত ভুল ছিল—আওয়ামী লীগের মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে টানার সুযোগ তারা কাজে লাগাতে পারেনি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে দলটির নেতাদের আলোচনার প্রসঙ্গ এদিকে ইঙ্গিত করলেও এনসিপি বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।

বর্তমানে বিএনপি একাত্তরের চেতনায় নির্বাচনের বার্তা দিচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। ফলে যারা জামায়াতবিরোধী এবং মুজিববান্ধব কিন্তু হাসিনা সরকারের সমালোচক, তাদের জন্য বিএনপিই এখন ‘কাম্য বিকল্প’ হয়ে উঠছে।

এনসিপির প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বদরুদ্দীন উমরের মন্তব্যও তা-ই ইঙ্গিত করে। তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিএনপিকেই এখন সবচেয়ে প্রগতিশীল মনে হচ্ছে।" তাঁর মতে, এটি দুঃখজনক। কারণ, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি দলের এমন অবস্থায় পড়ার কথা ছিল না।

রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে এনসিপিকে এখন বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। নইলে তারা একসময় নির্বাচন-পূর্ব সমঝোতায় কিছু আসনের প্রত্যাশায় বিএনপির ছায়ায় চলে যাবে।

ভোট রাজনীতির বাস্তবতায়, এনসিপিকে বুঝতে হবে—আন্দোলনের সফলতা রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় রূপ না নিলে তা ইতিহাসে হারিয়ে যেতে পারে। সারা বিশ্বের ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক আন্দোলনের নেতা তাদের অর্জনের ভারে পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে ব্যর্থ হয়েছেন। উদাহরণ রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, আলজেরিয়ার বেন বেল্লা কিংবা বাংলাদেশের শেখ মুজিবের ক্ষেত্রেও।

জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস গৌরবময় হলেও, রাজনীতির বাস্তবতা নির্দয়। যদি এনসিপি নিজেদের অবস্থান, ম্যান্ডেট ও লক্ষ্য পর্যালোচনা না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা গণআন্দোলনের মহান নেতৃত্ব দিলেও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।