এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা, মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার
মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার নামে প্রতারণা করে ছয় কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের সিআইডি।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, সোপান হসপিটাল লিমিটেডের জয়েনিং ফরম, নগদ ৪৭ হাজার ৪০০ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণালব্ধ ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৪ টাকা জমা পাওয়া গেছে।
গত আট মাসে সোপান প্রডাক্ট লিমিটেড (এসপিএল) প্রতিষ্ঠানের তিন প্রতারক বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ বেশি মূলধন দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে এক হাজার ৪২৭ জন মানুষের কাছ থেকে ছয় কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, সাধারণ মানুষদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য চক্রটি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে অফিস নেয়। যাতে করে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে বিনিয়োগ করতে কোনো সংকোচবোধ না করে। গত আট মাসে মূলধনসহ ২৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ করে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তারা সরকারি চাকরিজীবী ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে সদস্য করতো।
তিনি বলেন, একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের লগইন স্লট খুলে সদস্যদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন প্যাকেজে চক্রটি লভ্যাংশ দিতো। চক্রটি আড়াই হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৩০ টাকা লভ্যাংশ দিতো। সাত হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১০০ টাকা লভ্যাংশ, ২২ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৩০০ টাকা, ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৯০০ টাকা, এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ১৩শ’ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো।
রেজাউল হায়দার বলেন, একজন সদস্য বিনিয়োগের জন্য তিনজনকে নিয়ে এলে তাকে ১০ শতাংশ বোনাসসহ ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভ দিতো চক্রটি। এভাবে তিন মাসে এক হাজার ৪২৭ জনের কাছ থেকে প্রায় ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রের সদস্যরা।