ঈদের পর প্রথম সপ্তাহেই শেয়ারবাজারে দরপতন
ঈদের আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও ঈদের পর শেয়ারবাজারে ফিরেছে দরপতন। গত সপ্তাহে (ঈদের পর প্রথম কার্য সপ্তাহ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর ফলে বাজার মূলধন এক সপ্তাহেই ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা কমে গেছে।
৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হয়। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শেয়ারবাজারে টানা নয়দিন লেনদেন বন্ধ ছিল। বন্ধ শেষে ৬ এপ্রিল (রোববার) থেকে আবার লেনদেন শুরু হয়।
ঈদের পর প্রথম সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৫টির দাম কমেছে, ১৪১টির বেড়েছে এবং ১৯টির কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ফলে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা বা ০.৩৩ শতাংশ।
মূলধন কমার পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩.৯৩ পয়েন্ট বা ০.২৭ শতাংশ। তবে একই সময় ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১৩.২১ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৪.৮৫ পয়েন্ট।
বাজারে মূল্য কমলেও লেনদেন বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪০৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গড় লেনদেন বেড়েছে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা প্রায় ১৯.৭৯ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন-এর শেয়ারে, প্রতিদিন গড়ে ২৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে বেক্সিমকো ফার্মা (২৩ কোটি ৩৪ লাখ) এবং বিচ হ্যাচারি (১৭ কোটি ২০ লাখ)।
এছাড়া শীর্ষ দশ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে: শাইনপুকুর সিরামিক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, এসিআই লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস।