শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

দ্বিতীয় দফায় নিলামে উঠবে এমপি কোটায় আমদানি করা ৩০ গাড়ি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 মার্চ 2025, 10:44 দুপুর • 448 বার পঠিত
দ্বিতীয় দফায় নিলামে উঠবে এমপি কোটায় আমদানি করা ৩০ গাড়ি

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা সাবেক ২৪ এমপির ২৪টি বিলাসবহুল গাড়িসহ ৪৪টি গাড়ি চট্টগ্রামে নিলামে তোলা হলেও একটিও বিক্রি হয়নি। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এসব গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছে আমদানিকারকরা, ফলে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গাড়িগুলো নিলামে তোলা যাবে না। এ অবস্থায় সাবেক এমপিদের ২৪টি গাড়িসহ মোট ৩০টি গাড়ি দ্বিতীয়বার নিলামে তোলা হবে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানায়, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা সাবেক এমপিদের ২৪টি গাড়িসহ মোট ৪৪টি গাড়ির নিলাম প্রক্রিয়া ২৭ জানুয়ারি শুরু হয় এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলা হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত দাম উঠেনি।

নিলামে তোলা ৪৪টি গাড়ির মধ্যে রয়েছে জাপানের তৈরি ২৬টি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, পাঁচটি হ্যারিয়ার, দুটি র‌্যাভ ফোর, একটি এস্কয়ার এবং চীনের তৈরি ১০টি সিনো ডাম্প ট্রাক। সাবেক এমপিদের ২৪টি ল্যান্ড ক্রুজারের জন্য মূল্য নির্ধারিত ছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯৯ টাকা।

দরপত্রে ১৩৭টি আবেদন জমা পড়েছিল, কিন্তু সাবেক এমপিদের ২৪টি গাড়ির জন্য কেবল ১৪টি দরপত্র জমা পড়েছিল। গাড়ির দাম এক লাখ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠে, কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির জন্য কোনো দরপত্র জমা হয়নি। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

এই গাড়িগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় সাবেক সংসদ সদস্যরা আমদানি করেছিলেন, তবে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্কমুক্ত সুবিধাও বাতিল করে দেয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম জানান, প্রথম নিলামে সাবেক এমপিদের কোনো গাড়িতেই কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি। তিনি বলেন, "প্রথম নিলামে নির্ধারিত দামের ৬০ শতাংশ দরপত্র জমা পড়লে গাড়ি বিক্রি হতো। কিন্তু কোনো গাড়িতেই এতটা দর পড়েনি, তাই দ্বিতীয় দফায় নিলাম হবে।"

এছাড়া ২০টি অন্যান্য গাড়ির মধ্যে ১৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নিলাম প্রক্রিয়া পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের পরই শুরু হবে।
এছাড়া, আরও ৬টি গাড়ি দ্বিতীয় দফায় নিলামে তোলা হবে। এসব গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্যরা, তবে তাদের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব গাড়ি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বারভিডার সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, “কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না দিলে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করার পর আমদানিকারকদের সময় বাড়ানো হতে পারে।”

নিলামে তোলা এসব গাড়ি থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে, এবং সেগুলোর জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।