শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

দুই প্রেমিকাকে একসাথে বিয়ে করে আলোচনায় পঞ্চগড়ের রোহিনী

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 22 এপ্রিল 2022, 06:25 বিকাল • 464 বার পঠিত
দুই প্রেমিকাকে একসাথে বিয়ে করে আলোচনায় পঞ্চগড়ের রোহিনী

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রোহিনী চন্দ্র কর্মণ রনি (২৫) এখন সামাজিক যোগাযোমাধ্যম থেকে সংবাদেও আলোচনায়। এক আসরে দুই নারীকে বিয়ে করে  ঘরে তোলায় দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রোহিনী। 

বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীদ্বার গ্রামের যামিনী চন্দ্র বর্মণের ছেলে রোহিনী। গেল বুধবার রাতে একই গ্রামের টোনো কিশোর রায়ের মেয়ে মমতা রানী (১৮) আর উপজেলার গাঠিয়াপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে ইতি রানীকে (২০) বিয়ে করেন।

বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে দারুণ আলোচনার জন্ম দেয়। যামিনী চন্দ্রের বাড়িতে দুই নববধুকে দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। 

শুক্রবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, দুই নববধূ বাড়ির কাজ করছেন। শাশুড়ি তদারক করছেন। 

রোহিনীকে অবশ্য এই সময় বাড়ি পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। 

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ইতি ও রোহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ছিল। কয়েক মাস আগে পালিয়ে গিয়ে তারা মন্দিরে বিয়ে করে ফেলেন। তবে তারা বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। 

এদিকে মমতার সঙ্গেও রোহিনীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১২ এপ্রিল রাতে রোহিনী মমতার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে দুজনকে একত্রে পেয়ে মমতার বাড়ির লোকজন ব্যবস্থা নেয়। রোহিনীকে আটকে রাখা হয়। 

পরের দিন ১৩ এপ্রিল মমতার সঙ্গে রোহিনীর বিয়ে দিয়ে দেন ওই এলাকার লোকজন। বিয়ের পর রোহিনী একাই বাড়ি ফেরেন। মমতা বাবার বাড়ি থেকে যান। 

স্বামীর বিয়ের খবর পেয়ে ইতি চলে আসেন রোহিনীদের বাড়ি। সেখানে স্ত্রীর দাবি নিয়ে অবস্থান নেন। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন। পরে এই অবস্থা দেখে স্ত্রীর দাবি নিয়ে রোহিনীর বাড়ি চলে আসেন মমতাও।

এসব দেখে আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিনীর সঙ্গে ওই দুই নারীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুজনের কারো আপত্তি ছিল না। তিন পরিবারের লোকজনই ছিল উপস্থিত। পুরোহিত দুই নারীর সঙ্গে রোহিনীর বিয়ে পড়ান। 

রোহিনীর বাবা যামিনী চন্দ্র যো কিছু ঘটেছে তা নিয়ে খুশি, ‘তাদের আগের বিয়েগুলোর বিষয়ে আমাদের কিছু জানা ছিল না। তাই, নতুন করে আমি আবার তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। তাদের বিয়ে নিয়ে আমাদের পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। এজন্য দুজনকে একসঙ্গে ঘরে তুলে দিয়েছি।’

বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুজনকে বিয়ে করে ঘরে তোলার কথা শুনেছি। এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তাই আমরাও এ নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি।’