ঢাবি “খ” ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হাফেজ জাকারিয়া
ঢাবিতে ফার্স্ট হওয়া লাগবে, এখন একমিনিট লস মানে ১ মার্ক পেছনে পড়ে যাওয়া কথা গুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “খ” ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া পটুয়াখালীর বদরপুর গ্রামের হাফেজ জাকারিয়ার বাড়ীর দেয়ালে লাগানো বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত নোটের পাশাপাশি নিজ হাতে লেখা এটি সংক্ষিপ্ত নোটের। আজ সকালে পটুয়াখালী শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পটুয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের বদরপুরের মোল্লা বাড়িতে গিয়ে কথা হয় হাফেজ জাকারিয়ার গর্বিত মা কাজী তাহেরা পারভীনের সাথে। তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিজ কর্মস্থল দুধাল মৌ ফয়েজ হোসেন ফাজিল মাদ্রাসার যাওয়ার জন্য, সেখানে তিনি সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামী মো: শহীদুল ইসলাম সেলিম মোল্লা উইলস মার্কেটিং কোম্পানীর সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার হিসেবে মাওনা শ্রীপুর,গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।
জাকারিয়ার বাড়ীর প্রত্যেকটি দেয়ালে, বাথরুমের সামনে লাগানো বেসিনের উপর আয়না থেকে খাবার টেবিলে বসার স্থানের উপর দেয়ালে সর্বত্রই বিভিন্ন শর্ট-নোট সহ পড়ালেখার বিষয়গুলি নিজ হাতে লেখে স্কচটেপ দিয়ে লাগানো রয়েছে। ঘরে প্রবেশের মুখে দেয়ালেই লাগানো রয়েছে ঢাবিতে ফার্স্ট হওয়া লাগবে। এখন একমিনিট লস মানে ১ মার্ক পেছনে পড়ে যাওয়া। “Nature finds way to ensure the survival of the fittest.”
২০০২ সালে নিজ গ্রামের বাড়ী পটুয়াখালীর বদরপুরে জন্ম গ্রহণ করেন জাকারিয়া। জাকারিয়ার মা তাহেরা বেগম ছেলের সাফল্যে প্রথমে মহান আল্লাহর কাছ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন ,“আল্লাহর রহমত না থাকলে সামনে আগানো সম্ভব নয়,আল্লাহর কাছে চেয়েছি মহান আল্লাহ শুনেছেন, আমার ছেলে মানুষের উপকার করতে পারে সমাজের উপকার করতে পারে, ইহকাল পরকালে সফলতা অর্জন করতে পরে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।” প্রাইমারীতেস্কুলে প্রধান শিক্ষক তার বিশেষ নজর দিতেন আমার ছেলের প্রতি, বাড়ীতে আমি তাকে পড়িয়েছি কোন প্রাইভেট পড়ায়নি।ছোট বেলা থেকে শান্ত শিষ্ট স্বভাবের তার ছেলে পটুয়াখালী জেলার বদরপুরের ১৫ নং দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার প্রাথমিকের পড়ালেখা শুরু করে। সেখান থেকে ২০১১ সালে পঞ্চম শ্রেনীতে বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি প্রাপ্ত হয়ে জেলায় তৃতীয় স্থান লাভ করে। ধার্মিক পরিবারে সন্তান হিসেবে মা ও বাবা তাকে পরবর্তীতে ২০১২ সালে ভর্তি করিয়ে দেন পাংগাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসায় সেখানে সে ৬মাস পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে বাবার চাকুরীর সূত্রে ঢাকার শ্রীপুরের মাওনা জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হেফজখানায় ভর্তি হয়ে ২০১৪ সালের মধ্যে হাফেজী পাস করেন। ২০১৫ সাল থেকে বাড়ীর মসজিদে খতম তারাবারি নামাজ পড়াতে শুরু করেন জাকারিয়া। পাশাপাশি সপ্তম শ্রেনীর পড়ালেখা জাকারিয়া বাড়ীতেই মায়ের তত্বাবধানে সম্পন্ন করেন। ২০১৫ সালে ৮ম শ্রেনীতে পাংগাশিয়া নেছারিয়া মাদ্রাসায় পুনরায় ভর্তি হন সেখান থেকে ৮ম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত হন, লাভ করেন উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান। ৯ম শ্রেনীতে ঢাকার ডেমরার শারুলিয়া দারুন নাজাত ছিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি পরীক্ষায় সহ্রসাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যেপ্রথম স্থান লাভ করে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১৮ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ -৫ প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে। ২০২০ সালে আলিম পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।