দেশে যে কারণে আত্মহত্যায় ঝুঁকছে তরুণরা
করোনা মহামারীতে দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। করোনা মহামারী শুরুর পর (৮ মার্চ ২০২০-৮ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) সর্বমোট আত্মহত্যা করে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে ৩২২টি কেস স্টাডি করে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশই তরুণ-তরুণী। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর হারই সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে, এ সময় দেশের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় : একটি প্রায়োগিক জরিপ’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ এ জরিপ চালায়; সংগঠনটি তরুণদের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে কাজ করে। তারা গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপকালে দেশের ২ হাজার ৫৫২ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মতামত নেয়।
করোনা সংক্রমণের কারণে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এ শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এ অবস্থায় আগামীকাল পালিত হবে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘একটি বৈষম্যমূলক বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’। আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশই বিষন্নতায় ভুগছেন। এটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। একজন শিক্ষার্থী যখন বিষন্নতায় ভোগেন তখন তিনি কোনো কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারেন না। বিষন্নতা হচ্ছে আত্মহত্যার প্রাথমিক ধাপ। বিষন্নতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেন। আগে শিক্ষার্থীরা এত বেশি বিষন্নতায় আক্রান্ত হতেন না, কিন্তু এখন হচ্ছেন। এটি উদ্বেগজনক। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে একপক্ষীয় কোনো সমাধান নেই। যে বিষয়গুলো আমাদের মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেসব বিষয় থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে ঢাকা বিভাগ থেকে অংশগ্রহণকারীর হার সবচেয়ে বেশি। যা ১ হাজার ৪৮৪ জন (৫৮ দশমিক ২%)। দেখা যায়, মহামারীতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী শহরেই অবস্থান করেন। এর মধ্যে ৭৭৪ জন গ্রামে আর বাকিরা শহরে ছিলেন। এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ৩৮০ জন অবিবাহিত এবং ১৬২ জন বিবাহিত। ১০ জন তালাকপ্রাপ্ত। অংশগ্রহণকারীদের ৯৯৯ জন পুরুষ আর ১ হাজার ৫৫২ জন নারী। একজন তৃতীয় লিঙ্গের।