শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ হাজার ৮৭৩ মিলিয়ন ডলার:অর্থমন্ত্রী

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 21 এপ্রিল 2026, 08:30 রাত • 165 বার পঠিত
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ হাজার ৮৭৩ মিলিয়ন ডলার:অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভঙ্গুর আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলকরণ এবং ধাপে ধাপে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে অর্থ বিভাগে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল সভায় মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি, বিনিময় হার নীতি ও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সমন্বিত কৌশল উপস্থাপন করা হয় এবং ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুমোদিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারের মাধ্যমে আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০.০ শতাংশে বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪.১০ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

তিনি আরও বলেন, ভঙ্গুর ও সংকটে থাকা উৎপাদন ও আর্থিক কার্যক্রমকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ সহায়তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসায়ীদের মূলধনে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত। এ লক্ষ্যে ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গড়ে তোলা, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে সরকার মধ্যমেয়াদি কাঠামোতে সামষ্টিক ও আর্থিক সূচকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ (এম২) এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার মনে করে, এ ধরনের সমন্বিত নীতিকাঠামো আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, আস্থা ও কার্যকর অর্থায়ন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।