ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরানকে অব্যাহতি, প্রজ্ঞাপন জারি
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার
এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এই প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২–এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিলক্রমে তাঁকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান
করা হলো। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা ওই বিবৃতি বিষয়ে এটর্নি জেনারেলের
কার্যালয় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে। এমন দাবি করে এমরান বলেন, ‘ এটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এতে স্বাক্ষর করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।’
তিনি বলেন, এটি আমার নিজস্ব চিন্তা। যে বিবৃতি দিয়েছেন ১৬০ জন নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, আমি ওনাদের বিবৃতির সঙ্গে একমত। আমি মনে করি, অধ্যাপক ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটা বিচারিক হয়রানি।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে বিবৃতি বিষয়ক ইস্যুতে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।
সেদিন মন্ত্রী রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একটি আলোচনা সভা আয়োজন করে। সেটির শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তিনি (এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল)। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে হয় তার পদত্যাগ
করে কথা বলা উচিত, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের পারমিশন নিয়ে। তিনি ডিএজি থেকে সেটি করেননি। তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।
সাংবাদিকরা এরপর জানতে চান এই জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা। তখন আইনমন্ত্রী বলেন, আমি এটা দেখব। অবশ্য পরে দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র প্রথম আলোর কাছে আইনমন্ত্রী বলেন, ''তাঁর (এমরান আহম্মদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।''
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে খোলাচিঠি (বিবৃতি) পাঠিয়েছেন বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে শতাধিক নোবেল জয়ী আছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। শিকাগোভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান সিজিয়ন পিআর নিউজওয়্যার তাদের ওয়েবসাইটে গত ২৮ আগস্ট এই চিঠি প্রকাশ করে।
এদিকে ৫ সেপ্টম্বরই এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতির কোনো নির্দেশনা বা নোটিশ দেয়া হয়নি। নিশ্চিতভাবে কোনো পক্ষকে খুশি করার জন্য ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ
ভূঁইয়া এটা বলেছেন। নিশ্চয়ই এখানে তার কোনো উদ্দেশ্যে ছিল।
এটর্নি জেনারেল আজ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যদি তাকে কেউ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলতো, তার তো উচিত ছিল এটর্নি জেনারেল হিসেবে আমাকে জিজ্ঞেস করা। কিন্তু তিনি আমার
সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি। গতকাল ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু কোর্ট প্যান্ট পরে এসে তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেছেন। এখানে নিশ্চয় তার কোনো উদ্দেশ্য আছে।’ তিনি আরো বলেন, এটর্নি
জেনারেল অফিসে কোন ওয়াটসআপ গ্রুপ নেই।