দায়িত্ব নিয়েই সাদাপাথরে অভিযান: জেলা প্রশাসক সারওয়ারের
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথরে’ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা পাথর জব্দ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাদাপাথরকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে যা যা দরকার তাই করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুপুরেই তিনি সাদাপাথর এলাকায় পরিদর্শনে যান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারওয়ার আলম বলেন, “সাদাপাথর থেকে আর একটি পাথরও চুরি হতে দেওয়া হবে না। কারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, কেন ও কীভাবে হয়েছে—সব পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বিকেলে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার টুকেরগাঁও এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ‘চাচা-ভাতিজা স্টোন ক্র্যাশার’, ‘মেসার্স আল করিম স্টোন ক্র্যাশার’ ও নামছাড়া আরেকটি ক্র্যাশার মিল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাথর জব্দ করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিন মিয়া জানান, জব্দকৃত পাথরের পরিমাণ সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ শেষে জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “অবৈধভাবে লুণ্ঠিত পাথর কোথায় কোথায় আছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত পাথর প্রতিস্থাপন করা হবে। শিগগিরই সাদাপাথর তার আগের অবস্থায় ফিরবে।”
কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জনগণই আমাদের শক্তি। জনগণ ইতোমধ্যে এই লুটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
সিলেটের উন্নয়ন টেকসই হতে হবে উল্লেখ করে সারওয়ার আলম বলেন, “সিলেট হচ্ছে প্রকৃতিকন্যা। এখানে উন্নয়ন অবশ্যই হবে, তবে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করে নয়। পর্যটন, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা—এসব খাতেই থাকবে আমার অগ্রাধিকার।”
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে সিলেটের সংরক্ষিত এলাকা, পর্যটনকেন্দ্র ও পাথর কোয়ারি থেকে ব্যাপক বালু-পাথর লুটের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সমালোচনার পর আগের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করা হয়।