শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ড. সাইফুলের বর্তমান কাজের সাথে সম্পৃক্ততা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 03 মে 2026, 05:35 বিকাল • 182 বার পঠিত
ড. সাইফুলের বর্তমান কাজের সাথে সম্পৃক্ততা

২০২৪ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় ড. মো: সাইফুল ইসলামের পিএইচডি শেষ হলো। তার ইচ্ছে ছিল এরপর সেই দেশেই দুই তিন বছর ফ্যাকাল্টি হিসেবে চাকরি করার পরে দেশে ফেরার। সেখানে ভিসি পর্যায়ের ইন্টারভিউও হলো। কিন্তু মালয়েশিয়ায় চাকরি করা হলো না।
 
যেহেতু মালয়েশিয়ায় তার ইচ্ছেপূরণ হলো না তাই নিজ দেশে ফিরে এসে এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন সাইফুল। এখন বাংলাদেশে দুটি দিকে কাজ করছেন তিনি। একটি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সে। এখানে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনি অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। শেষ সেমিস্টারে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে পড়িয়েছেন। এই সেমিস্টারে পড়াচ্ছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। এখানে তিনি চুক্তিভিত্তিক ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে চাকরি করছেন।

দ্বিতীয় আরেকটি কাজ করছেন সাইফুল। বাংলাদেশে বেশ কিছু সেক্টর আছে যেখানে জনগণের প্রচুর পরিমানে টাকা নষ্ট হয়। এআই ও সিস্টেম অটোমেশনের মাধ্যমে এইসব সেক্টরের টাকা নষ্ট হওয়া প্রতিরোধে তারা কাজ করছেন। মূলত ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এসব নিয়েই কাজ করছেন। 

এরকম বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের সঙ্গে তিনি জড়িত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট হলো ইন্ডাস্ট্রি গ্যাস মিটার অটোমেশন। বাংলাদেশে যতো গ্যাস উৎপাদন হয় তার ৯৭ শতাংশ ইন্ডাস্ট্রি ব্যবহার করে। কিন্তু তিতাস ও বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে যখন গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন হয় তখন তারা প্রতি মাসে ৩০০/৪০০ কোটি টাকা সিস্টেম লস দেখায়। তাতে প্রতি বছর লস দেখায় প্রায় ৩০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

এটা ঠিক করার জন্য তারা গ্যাস উৎপাদন থেকে শুরু করে এলএনজি আমদানী এরপর কিভাবে গ্যাস কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তা ট্র্যাকিং নিয়ে সাইফুলরা কাজ করছেন। এর সাথে ইন্ডাস্ট্রিতে তারা অটোমেটেড এআই নির্ভর বিলিং সিস্টেম ইম্প্লিমেন্ট করছেন। এর কারণ হলো, কোনোভাবে গ্যাস যেন কোথাও থেকে চুরি না হয়। মিটার রুমে কেউ ঢুকলে এআই অ্যালার্ট জারি করবে। ওই রুমে ঢুকতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। মানুষের কোনোরকম সংস্পর্শ ছাড়াই এআই কাজ করবে। 

এছাড়া জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের ইএমআরডি পোর্টাল যেখানে মূলত তাদের এম্প্লয় ম্যানেমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টসহ যত ধরণের ম্যানেজমেন্ট আছে তা সাইফুলরা করে দিয়েছেন। এর বাইরে বিস্ফোরক অধিদপ্তর যে লাইসেন্স দেয় যেমন প্রেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স, বিদেশ থেকে বিভিন্ন রকমের যে বিস্ফোরক আনা ও মজুত করা - এরকম বিষয়গুলোতে বড় ধরণের দূর্ণীতি হয়। টেবিলে টেবিলে ফাইল ঘুরতে থাকে। টাকা পয়সার লেনদেন হতে থাকে। এটার সম্পূর্ণ অটোমেশন সাইফুলরা করে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো কোথাও যেন ফাইল আটকে না থাকে। ফাইল কোথাও আটকে থাকলে এআই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নোটিফাই করবে। এটা বেশ আগে করা হলেও কিছু অসাধু মানুষের কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে তা হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস সাইফুলের। 

সাম্প্রতিক জ্বালানী সংকটের সময় দুটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছেন সাইফুলরা। এর মধ্যে একটি হলো ফুয়েল পাস বিডি। এটার লক্ষ্য ছিল যাতে কেউ বেশি তেল মজুত না করতে পারে। এর পাশাপাশি আছে ফুয়েল পাস মনিটরিং। ৬৪ টি জেলা ও দুটি সিটি কর্পোরেশন ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে এটি ডেভেলপ করা। প্রত্যেকটা পেট্রোল পাম্প কী পরিমানে তেল পাচ্ছে, তারা সঠিকভাবে তা রিসিভ করছে কী না, মাঝখানে বিক্রি করছে কী না- এই সিস্টেমটা সাইফুলদের ডেভেলপ করা। 

সংক্ষেপে বলতে গেলে সাইফুল এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের ক্লাস নিচ্ছেন, বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) কনসালটেন্ট হিসেবে এবং মন্ত্রণালয়ের কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। 

এর পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি স্টার্টআপ কোম্পানির সঙ্গে সিও হিসেবে কাজ করছেন। এর একটি হলো এআই গ্যালাক্সি ওয়েব, আরেকটি টাইসল। সেখানে মূলত ফিনান্সিয়াল ও ট্যাক্স অটোমেশন নিয়ে কাজ করছেন তারা। 

বাংলাদেশের যে গ্যাস পাইপলাইনগুলো আছে তা সিকিউর করার জন্য ‘প্রহরা’ নামের একটি অ্যাপ ও সিস্টেম তৈরি করে দিয়েছেন সাইফুলরা।  এই অ্যাপের মাধ্যমে যারা পাইপলাইনগুলো পাহারা দিচ্ছেন তাদের রিয়ালটাইম মনিটর করা। 

এছাড়াও সাইফুলের নিজের যে সফটওয়ার ফার্ম আছে ফোরবিটস লিমিটেড নামে সেখানে কিছু কাজ চলছে।  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভে প্রজেক্টে কাজ করা। আরো আছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ডিজিটাল প্লাটফর্ম আপওয়ার্ক নিয়ে কাজ করা।