চট্টগ্রামে মাসের সর্বনিম্ন করোনা সংক্রমণ হার
চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ণিত হয়েছে। এ সময়ে নতুন ১৭ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহর ও গ্রামে কোনো রোগীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের করোনা সংক্রান্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো আজকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার ৫ শতাংশের নিচে নামা স্বস্তিদায়ক মনে করেন। চট্টগ্রামে চলতি মাসে এই প্রথম সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলো।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ও নগরীর নয় ল্যাবরেটরি এবং এন্টিজেন টেস্টে গতকাল ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন আক্রান্ত ১৭ জনই শহরের বাসিন্দা। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ জনে। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৯৩ হাজার ৬৬৯ জন এবং গ্রামের ৩৪ হাজার ৮৩১ জন। গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা যাননি। ফলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৭ জন রয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৭৩৭ জন ও গ্রামের ৬৩০ জন।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে গতকাল সবচেয়ে বেশি ২৭০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শহরের একজন পজিটিভ শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেকহা) ল্যাবে ১৪ টি নমুনার মধ্যে শহরের একটিতে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএলে ৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে একজন আক্রান্ত পাওয়া যায়।
বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ২৬ জনের নমুনায় শহরের ৪ জনের দেহে ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলে।ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি শেভরনে ১২ টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে সবগুলোর রেজাল্ট নেগেটিভ আসে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ৩১ টি নমুনার মধ্যে শহরের একটিতে সংক্রমণ পাওয়া যায়। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১৩ জনের নমুনায় একজনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়। এপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে পরীক্ষিত ২৭ নমুনায় শহরের ২ টি আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ল্যাবে ১৬ নমুনার মধ্যে একটিতে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে পরীক্ষিত ৪৩ জনের নমুনায় শহরের ৫ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন কেন্দ্রে ১০ জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হলে সবাই করোনামুক্ত বলে জানানো হয়।
এদিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), ল্যাব এইড ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রামের কোনো নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে সংক্রমণ হার পাওয়া যায়, বিআইটিআইডি’তে ০ দশমিক ৩৭, চমেকহা’য় ৭ দশমিক ১৪, আরটিআরএলে ৩৩ দশমিক ৩৩, শেভরনে ০, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১৫ দশমিক ৩৮, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ৩ দশমিক ২২, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৭ দশমিক ৬৯, এপিক হেলথ কেয়ারে ৭ দশমিক ৪১, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৬ দশমিক ২৫ ও এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১১ দশমিক ৬৩ এবং এন্টিজেন টেস্টে ০ শতাংশ।